সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (SRFTI) পড়ুয়াদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ক্রমশ বাড়ছে টানাপড়েন ।প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠালেন SRFTI-এর উপাচার্য সন্তোষ অজমেরা । কয়েক জন পড়ুয়ার বিরুদ্ধে বহিষ্কার ও কারণ দর্শানোর নোটিস জারির সিদ্ধান্ত নিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় । সেখানে কর্তৃপক্ষের দাবি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার জন্য নয়, বরং উপাচার্যের দফতরে ভাঙচুর, শারীরিক হেনস্তা এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে । পড়ুয়াদের প্রতিবাদ করার অধিকারকে অস্বীকার করা হচ্ছে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান। নিজেদের মত প্রকাশ করা, অভিযোগ জানানো এবং শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার অধিকার পড়ুয়াদের রয়েছে। কিন্তু সেই অধিকারের আড়ালে ভাঙচুর, শারীরিক হেনস্তা কিংবা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম ভাঙার ঘটনা বরদাস্ত করা যায় না বলেই কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ।বিজ্ঞপ্তিতে উপাচার্যের দফতরে ভাঙচুরের একাধিক অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, দফতর দখল করে রাখার পাশাপাশি জানলার কাচ ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় জলের সংযোগ এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। শুধু তাই নয়, একটি ঘটনায় এক পড়ুয়া উপাচার্যকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ। অন্য কয়েকজন পড়ুয়া তাঁকে লক্ষ্য করে গালিগালাজ ও ভয় দেখান বলেও দাবি করা হয়েছে ।

এই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত তথ্য অনুসন্ধান কমিটির রিপোর্ট এবং ডিন কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতেই শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ডিন কাউন্সিলে বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, ডিন, রেজিস্ট্রার এবং তথ্য অনুসন্ধান কমিটির সদস্যেরা রয়েছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করছেন, একমাত্র যে ক্লাসরুমটিতে তাঁরা ইন্টারনেট সংযোগের জন্য ওয়ার্কস্টেশন হিসেবে ব্যবহার করছিলেন, শনিবার সন্ধে থেকে সেটির বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ৷

যদিও SRFTI-এর এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা মিথ্যে কথা বলছেন ৷ কোথাও বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করা হয়নি ৷ কারণ, পড়ুয়ারা নিজেদের কাজকর্ম থেকে শুরু করে সাংবাদিক বৈঠক লাইভ স্ট্রিমিং করতে পারছেন ৷ এর আগে ক্যাম্পাসে পানীয় জলের সংযোগও বন্ধ করার অভিযোগও উঠেছে ।