অর্ণব ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় দক্ষিণ ওড়িশায় আগে থেকেই প্রস্তুত দমকল বাহিনী ৷ 225টি দল তৈরি করে দক্ষিণের সব জেলার বিভিন্ন জায়গায় বহাল করা হয়েছে ৷ সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে জানিয়েছে উদ্ধারকারী বাহিনী ৷ গঞ্জাম এবং গজপতি জেলার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী বাহিনী ৷ গঞ্জাম জেলায় 26টি দল মোতায়েন করা হয়েছে ৷ 43টি যান্ত্রিক করাত, 19টি টেলিস্কোপিক টাওয়ার লাইট, 7টি রাবার বোট, 10টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প এবং 6টি কম্বি টুল-সহ ব্রহ্মপুর সার্কেলে 7টি দল তৈরি রয়েছে ৷ গঞ্জামের ছত্রপুর সার্কেলে 16টি দল সক্রিয় রয়েছে ৷ এখানে উদ্ধারকাজের জন্য 86টি যান্ত্রিক করাত, 46টি টেলিস্কোপিক টাওয়ার লাইট, 18টি রাবার বোট, 11টি কম্বি টুল এবং 2টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প তৈরি রাখা হয়েছে ৷ ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য গজপতি জেলার পারালাখেমুণ্ডি সার্কেলে 8টি দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৷ এখানে উদ্ধারকাজে তৈরি রাখা হয়েছে 32টি যান্ত্রিক করাত, 7টি রাবার বোট এবং 3টি কম্বি টুল ৷ রাখা হয়েছে অতিরিক্ত 17টি টেলিস্কোপিক টাওয়ার লাইট ৷ এর মধ্যে 9টি থাকছে পারালাখেমুণ্ডি সার্কেলে ৷ আর বাকি 8টির ব্যবস্থা করেছে জেলা প্রশাসন ৷ সব মিলিয়ে 34টি দল সম্পূর্ণ রূপে তৈরি রাখা হয়েছে দুই জেলার জন্য ৷ 26টি দল গঞ্জাম এবং 8টি দল গজপতি জেলার জন্য কাজ করবে ৷ সাইক্লোনের পরে ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছ সরানো, রাস্তা থেকে জঞ্জাল সাফ করা, জল জমে থাকা এলাকাগুলো থেকে জল দ্রুত নামানো ব্যবস্থা করা এবং জলে আটকে থাকা মানুষজনকে উদ্ধার করার জন্য এই দলগুলিকে তৈরি থাকতে বলা হয়েছে ৷
এই সূত্রে এক সাংবাদিক বৈঠকে দমকল বাহিনীর আধিকারিক রমেশ মাঝি জানিয়েছেন, ওড়িশা সরকার চায় এই ঝড়বৃষ্টিতে একটিও প্রাণহানির ঘটনা যাতে না ঘটে ৷ সেই লক্ষ্যেই সব উদ্ধারকারী বাহিনী একযোগে কাজ করবে ৷ সরকারি সব নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলবেন দমকল এবং আপৎকালীন বিভাগের সদস্যরা ৷ তাঁর বক্তব্য, দমকল বাহিনীর সদস্যদের ওপর নির্ভর করে দক্ষিণ ওড়িশার 3 জেলায় 225টি দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৷ তাদের বিভিন্ন জায়গায় বহাল করে দেওয়া হয়েছে ৷ সরকারি নির্দেশমতো আরও 8টি অতিরিক্ত দল বহাল করার প্রক্রিয়া চলছে ৷ রাখা হবে আরও 11-12টি দল ৷ সব মিলে এই সংখ্যাটা দাঁড়াবে 245টি দলে ৷ সব দলের কাছেই আধুনিক সব ধরনের যন্ত্রপাতি রয়েছে ৷ রাস্তায় পড়ে থাকা গাছ সরাতে বৈদ্যুতিন করাতও রাখা হচ্ছে ৷ জরুরি ভিত্তিতে যাতে দ্রুত রাস্তাঘাট থেকে গাছের ডালপালা সরিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা মসৃণ রাখা যায় তার জন্য দেওয়া হচ্ছে 1510টি বৈদ্যুতিন করাত ৷ ভারী বৃষ্টিতে জল জমা বা বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে জেলা প্রশাসনকে সাহায্য করতে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ফায়ার পাম্প ৷ 12টি প্লাসমা কাটার ভেহিকল তৈরি রাখা হচ্ছে রাস্তা থেকে বৈদ্যুতিন খুঁটি বা টেলিকম টাওয়ার ইত্যাদি সরানোর জন্য ৷এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও চেয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ৷ অতীতের ঘূর্ণিঝড়ের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাসিন্দাদের বলা হয়েছে, নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে ৷ অর্ণব সাইক্লোন যাতে এই রাজ্যে কোনওভাবেই প্রাণ কেড়ে নিতে না পারে, তার জন্য বদ্ধপরিকর প্রশাসন ৷অর্ণব ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়তে চলেছে অন্ধ্রপ্রদেশেও ৷ বিশাখাপত্তনম প্রশাসন আগাম সতর্কতা হিসেবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেছে ৷ দক্ষিণ উপকূলীয় রেলওয়ে ইতিমধ্যেই বাতিল করেছে 53টি ট্রেন ৷ বিশেষজ্ঞদের দাবি, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে 20 সেন্টিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হবে ৷ অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওড়িশায় মঙ্গলবার ও বুধবার উত্তাল হবে সমুদ্র ৷

