ওড়িশা উপকূল থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে প্রস্তুত করা ‘প্রলয়’ নামের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রটি। নির্দিষ্ট সময় সকাল এগারোটা বেজে দশ মিনিটে হওয়া এই উৎক্ষেপণ দেশের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পথে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও-র (DRDO) সুনিপুণ দক্ষতায় এই মিসাইলটি তৈরি করা হয়েছে। প্রায় ৭৫০০ কিলোমিটার প্রতিঘণ্টা গতিসম্পন্ন এই অস্ত্রটি স্বল্প দূরত্বের নিখুঁত আঘাত হানার জন্য বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে। কম দূরত্বে লক্ষ্যভেদের জন্য তৈরি হলেও এর সর্বোচ্চ পাল্লা বা রেঞ্জ প্রায় ৫০০ কিলোমিটার। এর ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা ব্যাপক, কারণ এটি ৭০০ কিলোগ্রাম ওজনের ওয়ারহেড বহন করার ক্ষমতা রাখে। এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সাফল্যের খবরটি সানন্দে ভাগ করে নিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। নিজের এক্স হ্যান্ডলে তিনি জানান যে, ডিআরডিওর তত্ত্বাবধানে ওড়িশা উপকূলে চালিত এই ফ্লাইট টেস্ট তার সমস্ত নির্ধারিত লক্ষ্য সফলভাবে অর্জন করেছে। বিভিন্ন ট্র্যাকিং যন্ত্রের সাহায্যে সংগৃহীত সমস্ত তথ্যই এই সাফল্যের সত্যতা প্রমাণ করেছে। এর আগে গত ডিসেম্বরে পিনাকা ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা করেছিল ডিআরডিও, যা ১২০ কিলোমিটার রেঞ্জের মধ্যে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম। একই সময়সীমার মধ্যে প্রলয়ের আগের পরীক্ষাগুলিও সফল হয়েছিল। তাছাড়া গত ২৩ ডিসেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে ৩৫০০ কিলোমিটার রেঞ্জের K-4 ব্যালেস্টিক মিসাইলেরও (K-4 missile) সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছিল ভারত। দেশের ‘মিসাইল ম্যান’ ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের স্মৃতিতে এই সিরিজের নামকরণ করা হয়েছে ‘K’ মিসাইল, যা ২ টন পর্যন্ত নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। ভারতের এই লাগাতার প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধি যে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও চিনের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

