শেষপর্যন্ত মঙ্গলবার রথের চাকা গড়াচ্ছে পুরীতে। শর্তসাপেক্ষে পুরীর রথযাত্রায় অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের। শুধুমাত্র পুরীর রথযাত্রাতেই অনুমতি দেওয়া হল, অন্য কোথাও নয়।করোনার যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে করতে হবে রথযাত্রা। শুধুমাত্র সেবায়েত রাই রথের দড়ি টানবেন এবং তাদের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ হতে হবে। লোকসমাগম না হওয়া নিশ্চিত করতে হবে ওড়িষ্যা সরকারকে। যাবতীয় গাইডলাইন মানা হচ্ছে কিনা দেখতে হবে সেটাও।জনস্বাস্থ্য নিয়ে কোনোরকম আপস করা চলবেনা, মন্তব্য প্রধান বিচারপতির।
পুরীর রথযাত্রা শুধুমাত্র একটি উত্সব নয়। এই রথযাত্রায় জড়িয়ে আছে বহু মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস। যদি এবছর রথের চাকা না ঘোরে, অর্থাত্ রথ না টানা হয়, তাহলে তা ১২ বছর পর্যন্ত আর চলতে পারবে না। এমনই রীতি নিয়ম রয়েছে। যার মানে দাঁড়ায় এবছর রথ পালন না করা হলে, তা আগামী ১২ বছরও উদযাপন করা যাবে না। তাই সংক্রমণ যাতে না ছড়ায়, তার সুব্যবস্থা করে, রথ উত্সবের অনুমতি দিক সুপ্রিম কোর্ট, এই আবেদন রাখে কেন্দ্র। শুনানির সময় কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই রথযাত্রার সপক্ষে এই যুক্তি তুলে ধরেন। সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন রাখতে গিয়ে তিনি আরও বলেন যে, শঙ্কারাচার্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সব সেবায়তের করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসবে, তারাই উপস্থিত থাকতে পারবেন এই উত্সবে। অন্যরা টিভিতে লাইভ সম্প্রচার দেখবেন। পুরীর রাজা এবং অনুষ্ঠান কমিটি এভাবেই সব ব্যবস্থা করবেন, যাতে রথের ফলে করোনা সংক্রমণে কোনও প্রভাব না পড়ে। পুরী লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়াই করা বিজেপি নেতা সম্বিত মহাপাত্রও শীর্ষ আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন যাতে আরও একবার পুরীর রথযাত্রা উত্সব নিয়ে ভাবনাচিন্তা করে আদালত। তারপরই শর্তসাপেক্ষে সেই অনুমতি দেয় শীর্ষ আদালত। জানানো হয় যে, সংক্রমণ না বাড়ে এমনভাবেই, নিয়ম মেনে করতে হবে রথ উত্সব। তবে চিফ জাসটিস বোবদে জানিয়ে দেন, শুধুমাত্র পুরীতেই পালন করা যাবে রথ, ওড়িশার অন্য কোথাও নয়।

