সই জাল কাণ্ডের তদন্তে ক্রমশ চাপ বাড়ছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর। সিআইডির তলব সত্ত্বেও টানা তিনবার হাজিরা এড়িয়েছেন তিনি। তৃতীয়বার দিল্লিতে থাকার কারণ দর্শিয়ে সময় চেয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে এবার অভিষেকের ওপর নজরদারি বাড়াতে সরাসরি এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছে সিআইডি! সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই যাতে সিআইডিকে দ্রুত অবহিত করা হয়, সেই মর্মে মৌখিকভাবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, অভিষেক কলকাতায় পা রাখা মাত্রই যে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের নোটিশ বা তলব করা হতে পারে, তা কার্যত স্পষ্ট। ঘটনার তদন্তে মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট বাসভবনের কাছে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে অভিযান চালায় সিআইডি। রেজোলিউশনের কপির সন্ধানে দীর্ঘক্ষণ সেখানে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। তদন্তের সূত্রপাত ভোটের ফল ঘোষণার পর। ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূলের বৈঠকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, পরবর্তীকালে বিধানসভায় এই সংক্রান্ত প্রস্তাবপত্র জমা দেওয়ার কথা ছিল। অভিযোগ, ১৯ মে কালীঘাটে ফের বৈঠকে বিধায়কদের সই সংগ্রহ করা হয়। বিধানসভায় জমা দেওয়া ৭০ জনের সই সম্বলিত প্রস্তাবপত্র এবং প্রাথমিক সইয়ের মধ্যে গরমিল পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে বিধানসভা সচিবের। এরপরই থানায় দায়ের হয় এফআইআর এবং তদন্তভার হাতে নেয় সিআইডি। দলেরই এক ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কের অভিযোগের আঙুল অভিষেকের দিকে ওঠায় তদন্তের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। এদিকে, সিআইডির এই তলব থেকে রক্ষাকবচ পেতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, বুধবার সেই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, হাইকোর্টের আজকের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং অভিষেকের ভবিষ্যৎ। সিআইডি একদিকে যখন কড়া অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে হাইকোর্টের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন অভিষেক। সব মিলিয়ে সই জাল কাণ্ড ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।