রাতের অন্ধকারে বাড়িতে আটকে রেখে গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ তিন যুবকের বিরুদ্ধে ৷ ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার উত্তর 24 পরগনা জেলার হাড়োয়া থানা এলাকায় ৷ তদন্তের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করল পুলিশ প্রশাসন । ঘটনার দুই অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ পলাতক একজন অভিযুক্ত ৷ বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অলকানন্দা ভাওয়াল বলেন, “অভিযোগ পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করেছে ৷”
নির্যাতিতা যুবতীর ডাক্তারি পরীক্ষা (মেডিকেল টেস্ট) সম্পন্ন করার পর শনিবারই তাঁকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পাঠানো হয়েছে । সেখানে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফৌজদারি কার্যবিধির 164 নম্বর ধারা অনুযায়ী নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি নথিভুক্তকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে । পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈবাহিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে 35 বছরের ওই গৃহবধূ হাড়োয়ায় বাপের বাড়িতেই বসবাস করছিলেন । অভিযোগ, শুক্রবার রাতে গৃহবধূকে একা পেয়ে স্থানীয় তিন যুবক জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে তাঁকে আটকে রাখে এবং দীর্ঘক্ষণ গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ।পরবর্তীতে নির্যাতিতা বিষয়টি পরিবারকে জানান ৷ এরপর তাঁর পরিবারের সদস্যরা অবিলম্বে হাড়োয়া থানার দ্বারস্থ হন । অভিযোগ পাওয়া মাত্রই অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে রাতেই বিশেষ অভিযানে নামেন হাড়োয়া থানার পুলিশ আধিকারিকরা । ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ সঞ্জীব সাহা এবং খোকন কাহার নামে দুই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় । তবে এই ঘটনায় জড়িত রাজু কাহার নামে আরও এক অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক । তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হলেও নির্যাতিতার পরিবারের দাবি অপরাধে চারজন যুক্ত ছিল । ইতিমধ্যেই ধৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় গণধর্ষণের মামলা রুজু করেছে পুলিশ । শনিবার আইনি প্রক্রিয়া মেনে নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষা করানোর পরেই তাঁকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে বিচারকের সামনে হাজির করা হয় । পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং মামলার আইনি ভিত্তি মজবুত করতে এই জবানবন্দি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে ।ঘটনার পর থেকে পলাতক অভিযুক্তের খোঁজে সম্ভাব্য সমস্ত ডেরায় তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত জারি রেখেছে হাড়োয়া থানার পুলিশ । ধৃত দু’জনকে শনিবার বসিরহাট মহকুমা আদালতে তুলে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ ৷

