banganews.net

 পশ্চিমবঙ্গে পূর্ণাঙ্গ রূপ নিল কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত’। একই সঙ্গে রাজ্যে চালু হল ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’। রবিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘আয়ুষ্মান দিবস’-এর মূল মঞ্চ থেকে এই জোড়া স্বাস্থ্য প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ দিন তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, পূর্বতন সরকারের আমলে 16 অগস্ট দিনটিতে ‘খেলা হবে দিবস’ পালন করা হলেও বর্তমান সরকার মানুষের দীর্ঘায়ু কামনায় দিনটিকে ‘আয়ুষ্মান দিবস’ হিসেবে বেছে নিয়েছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজকের দিন 1946: দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং ডে। 10 হাজার হিন্দুকে খুন করা হয়েছিল কলকাতাতে। আগের সরকার খেলা হবে দিবস করত। আর বর্তমান সরকার আয়ুষ্মান ভব, আয়ুষ্মান দিবস পালন করছে আপনাদের শতায়ু প্রার্থনা করে।” তিনি কলকাতার ত্রাতা গোপাল মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করে প্রণাম জানান। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া পটেল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী, রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের 1 কোটি 43 লক্ষ পরিবার অর্থাৎ প্রায় 6 কোটি মানুষ সরাসরি আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন। এর বাইরে থাকা বাকি 80 লক্ষ পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’ চালু করা হল। 70 বছর বা তার বেশি বয়সি সমস্ত প্রবীণ নাগরিকও এই সুবিধার আওতায় আসছেন। স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে শুভেন্দুবাবু বলেন, “স্বাস্থ্য সাথীতে আপনারা পশ্চিমবঙ্গে প্রাইভেট এবং সরকারি মিলে প্রায় 1500 মত হসপিটালে কিছু কিছু সুবিধা পেতেন সবাই পেতেন না। এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে 1240টি বেসরকারি আর 627টি সরকারি হসপিটালে আপনারা এই দুটো সুবিধাই একসঙ্গে পাবেন।” একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, আগে এই সুবিধা রাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, শুধু একবার ভেলোরের সিএমসি-তে এক বছরের জন্য তা কার্যকর হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। নতুন ব্যবস্থায় গোটা দেশের 38,604টি হাসপাতালে ‘আসমুদ্র হিমাচল’ এই সুবিধা মিলবে।চিকিৎসার পরিধি প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগে 1700টি আইটেমে চিকিৎসা মিলত। এখন প্যাকেজের সংখ্যা 250টি বাড়িয়ে মোট 1950টি স্কিম যুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে হাঁটু বা কোমর প্রতিস্থাপনের (নি ও হিপ রিপ্লেসমেন্ট) মতো জটিল অস্ত্রোপচারও শামিল। পাশাপাশি রাজ্যে 100টি ‘অমৃত ফার্মেসি’, 467টি ‘প্রধানমন্ত্রী জনঔষধী কেন্দ্র’ এবং চোখের নিখরচায় চিকিৎসার জন্য ‘সুদৃষ্টি’ প্রকল্পের রূপায়ণের কথাও জানান তিনি।