ক্রাইম দেশ

স্টেশনে পৌঁছে দেওয়ার নাম করে ওড়িশায় বাঙালি মহিলাকে গণধর্ষণ

ওড়িশায় গণধর্ষণের শিকার বাঙালি এক মহিলা ৷ স্টেশনে পৌঁছে দিতে অনুরোধ করেছিল মহিলা ৷ তারপরই চরম পরিণতি ৷ পরিচিত এক যুবক ও তার সঙ্গী মিলে বাঙালি মহিলাকে গাড়িতে তুলে স্টেশনে না পৌঁছে অন্যত্র নিয়ে যায় ৷ তারপরই গণধর্ষণ করে ৷ ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৭ মার্চ (শুক্রবার) ৷ সোমবার রাতে নির্যাতিতা তামান্ডো মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন । তারপরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ৷ পুলিশ 102/2026 নম্বর কেসের মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে । এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই অভিযুক্তকে সোমবারই গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা ও তাঁর স্বামী ওড়িশার চন্দকা এলাকায় বসবাস করেন । নির্যাতিতার স্বামী পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি । বাংলা থেকে ওড়িশাতে গিয়েই অভিযুক্তদের একজনের সঙ্গে ওই মহিলার পরিচয় হয়েছিল । গত শুক্রবার কোনও একটি বিষয় নিয়ে ওই নির্যাতিতা ও তাঁর স্বামীর মধ্যে ঝগড়া হয় । রাগের বশে ওই মহিলা বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন । ওই মহিলার বাড়ির কাছেই থাকত পরিচিত যুবক তথা অভিযুক্ত ৷ তার কাছে সাহায্য চেয়ে মহিলা অনুরোধ করেন, “আমাকে একটু স্টেশনে পৌঁছে দেবে ৷” সে রাজি হয়ে যায় ৷ মহিলাকে জানায় তৈরি থাকতে ৷ এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই বাঙালি মহিলাকে স্টেশনে না-নিয়ে গিয়ে এইমস (AIIMS)-এর অদূরে নরসিংহপুরের এক বাসিন্দা তথা ওই যুবকের পরিচিত একজনের বাড়িতে নিয়ে যায় । সেখানেই দু’জন মিলে ধর্ষণ করে । এমনকী, ঘটনার কথা কাউকে জানালে নির্যাতিতাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় । মানসিক চাপ ও আতঙ্কের মধ্যে থাকা প্রথমে নির্যাতিতা সিদ্ধান্ত কাউকে এবিষয়ে জানাবেন না ৷ কিন্তু সোমবার নির্যাতিতা মনে সাহস সঞ্চয় করে তামান্ডো থানায় এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেন । পুলিশ তদন্তে নেমে নির্যাতিতার কাছ থেকে পুঙ্খনাপুঙ্খ তথ্য নিয়ে অভিযুক্তদের পাকড়াও করে ৷ মহিলার পরিচিত যুবক তথা বিচিত্র সাহুর বাড়ি নয়াপাড়ায় এবং অন্যজন হল নারায়ণ সোয়াইন । অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে সোমবারই আদালতে তোলা হয় । জামিনের আবেদন খারিজ করে আদালত তাদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় ৷ ইতিমধ্যেই নির্যাতিতার ডাক্তারি পরীক্ষার পর পুলিশ তাঁর বয়ান রেকর্ড করেছে ৷ অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা ৷