বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন নিয়ে সুপ্রিমকোর্টে ধাক্কা খেল নির্বাচন কমিশন ৷ বৃহস্পতিবার বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের নির্দেশ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া 65 লক্ষ ভোটারের নামের তালিকা প্রকাশ করতে হবে । কেন ওই নামগুলি বাদ দেওয়া হয়েছে তা-ও বিস্তারিতভাবে জানাতে হবে । এদিন দেশের শীর্ষ আদালত কমিশনকে কটাক্ষ করে বলে, কমিশন কি এই নামগুলির সাইন বোর্ড তৈরি করবে ঠিক করছে? তা না হলে কাদের নাম বাদ গেল তা নিজেদের ওয়েবসাইটে তুলে ধরতে তাঁদের সমস্যা হচ্ছে কেন ? যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা যদি তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করেন, তাহলে প্রমাণপত্র হিসেবে আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ডও গ্রহণ করতে হবে কমিশনকে, জানিয়েছে দুই বিচারপতির বেঞ্চ ৷ বিহারে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে একগুচ্ছ মামলা দায়ের হয়েছে । শুনানিতে এদিন কমিশনকে বাদ যাওয়া ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত । গত 1 অগস্ট প্রথম দফায় এসআইআর শেষে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন । এই তালিকায় 65 লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে জানানো হয় । তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় থাকলেও এসআরআর প্রক্রিয়ায় তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে । সেই নামগুলি কেন বাদ গেল, তা জানাতে হবে কমিশনকে । তাঁদের মধ্যে কারও মৃত্য়ু হয়েছে, কেউ বা অন্য বিধানসভায় অথবা অন্য কোথাও চলে গিয়েছেন । এই বাদ পড়ার কারণ-সহ নামগুলি পঞ্চায়েত স্তরের আধিকারিক এবং জেলা স্তরের রিটার্নিং আধিকারিকদের কাছে পাঠাতে হবে । আম জনতার সুবিধার্থে এই তালিকা কোথায় কোথায় দেখা যাবে, তা প্রচারে জোর দিয়েছে দুই বিচারপতির বেঞ্চ । এর জন্য আঞ্চলিক সংবাদপত্র থেকে শুরু করে ইংরেজি দৈনিক, সংবাদমাধ্যমের চ্যানেলগুলিতে এবং রেডিয়োর মাধ্যমে মানুষের কাছে বাদ-পড়া ভোটারদের তালিকা কোথায় দেখা যাবে, তার প্রচার করতে হবে । যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা আধার কার্ড নিয়ে নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে গিয়ে নাম তোলার জন্য আবেদন জানাতে পারবেন বলে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট । এই মামলার পরবর্তী শুনানি 22 অগস্ট । এর মধ্যে ভোট পরিচালন সংস্থাটিকে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত । চলতি মাসের পয়লা তারিখে নির্বাচন কমিশন খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে হিসেব দিয়েছিল, 22.34 লক্ষ ভোটারের মৃত্যু হয়েছে, 36.28 লক্ষ ভোটার স্থায়ীভাবে অন্যত্র সরে গিয়েছে অথবা তাঁদের সন্ধান পাওয়া যায়নি, 7.01 লক্ষ ভোটারের নাম একাধিক জায়গার তালিকায় রয়েছে । এদিন কমিশনের তরফে প্রবীণ আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী জানান, নির্বাচন কমিশন স্বশাসিত সাংবিধানিক সংস্থা । তাই তার হাতে কয়েকটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট ক্ষমতা আছে । কিন্তু আক্ষেপ, দেশের নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশে কাজ করতে হচ্ছে । আর তার ফলে তার বেশির ভাগ সিদ্ধান্ত নিয়েই বিতর্ক তৈরি হচ্ছে । তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলির লড়াইয়ের মধ্যে আটকে পড়েছে । দলগুলি যখন ভোটে পরাজিত হয়, তখন ইভিএমকে খারাপ বলে । অন্যদিকে যখন ওই দলই জয়ী হয়, তখন ইভিএম তাদের কাছে ভালো ।” আদালতে প্রবীণ আইনজীবী আরও জানান, বিহারের প্রায় 6.5 কোটি জনগণকে এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনও নথি জমা দিতে হয়নি । কারণ তাঁদের বাবা-মায়ের নাম এর আগে 2003 সালে হওয়া এসআইআর-এর তালিকায় নথিভুক্ত হয়ে রয়েছে ।
‘কেন বাদ গেল ৬৫ লক্ষ নাম’? নির্বাচন কমিশনকে কারণ সহ তালিকা প্রকাশের নির্দেশ সুপ্রিমকোর্টের
Byবঙ্গনিউজ
Aug 14, 2025
