চম্পাহাটিতে ফের বাজি বিস্ফোরণ ৷ ঘটনায় হুরুতর জখম হয়েছেন পাঁচজন ৷ এর মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ৷ জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার একটি ঘরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে ৷ প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, গুরুতর আহত হয়েছেন পদ্মারানি নস্কর (52) এবং আব্বাস গাজী নামে এক ব্যক্তি ৷ আহত সকলকে প্রথমে বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলেও পরে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয় ৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চঞ্চল্য ছড়িয়েছে ৷ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চম্পাহাটিতে একটি বাড়িতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয় ৷ শব্দ শুনে আশপাশের বাসিন্দারা ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে আসেন ৷ বিস্ফোরণে ঘরের ভিতরে থাকা পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে ৷ খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমতে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দাদের ৷ আহতদের মধ্যে পদ্মারানি নস্কর নামে এক মহিলার নামও সামনে এসেছে ৷ বিস্ফোরণের পর তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয় ৷
এদিকে, বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে উঠে এসেছে বেআইনি বাজি তৈরির গুরুতর অভিযোগ ৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, বাপি নস্কর মাছের ব্যবসার আড়ালে লোকালয় থেকে কিছুটা দূরে জঙ্গলের মধ্যে একটি ঘর তৈরি করেছিলেন ৷ অভিযোগ, সেই ঘরেই গোপনে বেআইনিভাবে বাজি তৈরির কাজ চলছিল ৷ প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, বাজি তৈরির সময় কোনওভাবে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে ৷ তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য মেলেনি ৷ ওই ঘরে ঠিক কী ধরনের সামগ্রী মজুত ছিল, সেখানে বাজি তৈরি করা হত কি না, বাজি তৈরির জন্য কোনও বিস্ফোরক বা দাহ্যপদার্থ মজুত ছিল কি না-এই সমস্ত বিষয় তদন্ত করে দেখছে পুলিশ ৷ স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতেই বেআইনি বাজি তৈরির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷ ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বারুইপুর পুলিশ জেলার বিশাল পুলিশ বাহিনী। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাসের নেতৃত্বে পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ৷ বিস্ফোরণের পর পরিস্থিতি যাতে আরও জটিল না-হয়ে ওঠে, সেজন্য এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয় ৷ ঘটনাস্থলে থাকা বিভিন্ন সামগ্রী এবং ঘরের পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷ বিস্ফোরণের খবর পেয়ে দমকল বাহিনীকেও খবর দেওয়া হয় ৷ তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বিস্ফোরণের পর দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেরি করে ৷ তাঁদের বক্তব্য, বাজি তৈরির মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ যদি কোনও এলাকায় গোপনে চলে, তাহলে সামান্য অসাবধানতাতেই বড়সড় বিপদ ঘটতে পারে ৷ তাই প্রশাসন ও দমকলের আরও দ্রুত তৎপরতার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা ৷
চম্পাহাটি এবং আশপাশের এলাকায় বাজি তৈরির কারবার নিয়ে এর আগেও একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে ৷ বিভিন্ন সময়ে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বহু ক্ষেত্রে বেআইনি ভাবে বাজি তৈরির অভিযোগও সামনে এসেছে। ফের বিস্ফোরণের ঘটনায় সেই পুরনো প্রশ্নই নতুন করে সামনে এসেছে—প্রশাসনের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে লোকালয়ের কাছাকাছি বা তার বাইরে গোপনে বাজি তৈরির কাজ চলতে পারে ? স্থানীয়দের দাবি, বেআইনি বাজি তৈরির সঙ্গে শুধু একটি ঘর বা একটি ব্যক্তির বিষয় জড়িত নয়। এর পিছনে বড় কোনও চক্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কোথা থেকে কাঁচামাল আনা হত, কীভাবে বাজি তৈরি করা হত এবং তৈরি বাজি কোথায় সরবরাহ করা হত—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে চাইছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ।

