দেশ

ফের বিএলও-মৃত্যু! SIR-এর চাপকেই দায়ী করছে পরিবার

 ফের মৃত্যু বিএলও’র ৷ বুধবার সকালে রাজস্থানের সোয়াই মাধোপুর জেলায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক বুথ স্তরের আধিকারিকের মৃত্যু হয়েছে ৷ সকালে তেহসিলদার (MRO) তাঁকে ফোন করেছিলেন ৷ এর কিছুক্ষণ পরই মৃত্যু হয় তাঁর ৷ পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় যে বিশেষ সংশোধনের কাজ চলছে, তার চাপে এই পরিণতি ৷ এদিকে এদিনই রাজ্যের জলপাইগুড়ির মালবাজারে এক বিএলও নিজের জীবন শেষ করে দিয়েছেন ৷ পরিবারের অভিযোগ, তিনি এসআইআর-এর কাজ নিয়ে প্রবল মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন ৷ তার জন্যে চূড়ান্ত পদক্ষেপ করেন ৷ মৃতের নাম শান্তিমুনি এক্কা (48) ৷ পেশায় আইসিডিএস কর্মী ছিলেন এবং 20/101 বুথের রাঙমাটি গ্রাম পঞ্চায়েতে বিএলও’র কাজ করছিলেন । রাজ্যে ফর্ম বিলি শুরু হয়েছে 4 নভেম্বর থেকে ৷ এর তিনদিনের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন বিএলও নমিতা হাঁসদা ৷ তিনি পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে নমিতা হাঁসদা নামের এক বিএলও ফর্ম বিতরণের সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন ৷ পরে কালনা হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয় ৷ যদিও তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে এসআইআর-এর সরাসরি কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছে জেলা প্রশাসন ৷ কিন্তু আইসিডিএস কর্মী নমিতা হাঁসদার স্বামী এই মৃত্যুর জন্য এসআইআর-এর বাড়তি কাজের দায়িত্বকেই দায়ী করেছেন ৷ গত 16 নভেম্বর কেরলেও কুন্নুর জেলার এত্তুকুুদুক্কা এলাকায় বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় এক বিএলও’র দেহ ৷ অনীশ জর্জ নামের ওই বুথ স্তরের আধিকারিক নিজের জীবন শেষ করেছেন বলে জানায় পুলিশ ৷ পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর-এর কাজের চাপে তিনি চরম সিদ্ধান্ত নেন ৷ পুলিশ এই ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে ৷ দেশের 9টি রাজ্য ও তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন এসআইআর চলছে ৷ অল্প সময়ের মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি থেকে শুরু ভোটারদের বিষয়টি বোঝানো এবং দিনের শেষে ডেটা এন্ট্রি নিয়ে প্রবল চাপের মধ্যে রয়েছেন বুথ স্তরের আধিকারিক বা বিএলও-রা ৷ বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলির প্রক্রিয়া চলবে আগামী 4 ডিসেম্বর পর্যন্ত ৷ এর মধ্যে একের পর এক বিএলও’র মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে ৷ তাঁদের মধ্যে কেউ চাপ সহ্য করতে না পেরে নিজের জীবন শেষ করেছেন ৷ কারও কাজের চাপে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৷ রাজস্থানের সোয়াই মাধোপুর জেলার বাসিন্দা হরিরাম ওরফে হরিওম বৈরওয়া (34) সেবতি খুর্দ সরকারি স্কুলের গ্রেড-3 শিক্ষক ছিলেন ৷ সম্প্রতি তাঁকে বিএলও হিসাবে নিয়োগ করা হয় ৷ পরিবার সূত্রে খবর এদিন তাঁকে তেহসিলদার ফোন করেন ৷ তারপর হঠাৎ তিনি লুটিয়ে পড়েন ৷ তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ সেখানেই হরিওমকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা ৷ হরিরামের আত্মীয়ের অভিযোগ, এসআইআর-এর নিয়ে তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রবল চাপ দিচ্ছিল ৷ গত ছ’দিনে তিনি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন ৷ বাড়িতে কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন না হরিরাম ৷ বিপুল কাজের চাপের জন্য তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং তাঁর মৃত্যু হয় ৷

হরিরামের ভাই আশিস বৈরওয়া অভিযোগ করেন, অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছিল হরিরামকে ৷ আবার ভোর ভোর উঠে পড়ছিলেন ৷ তাঁদের বাবা ব্রিজমোহন বৈরওয়া সাংবাদিকদের বলেন, “আমি জানি না, তেহসিলদার ফোনে ওকে কী বলেছিল, কিন্তু পাঁচ মিনিট পরে ছেলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয় ৷” তেহসিলদার অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ৷ তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া নির্দেশগুলি তিনি হরিরামকে বলে দিয়েছিলেন ৷ খণ্ডর স্টেশন হাউজ অফিসার (এসএইচও) লক্ষ্মণ সিং জানান, এই বিষয়ে কোনও সরকারি অভিযোগ দায়ের হয়নি ৷ এর আগে রাজস্থানের জয়পুরে এক সরকারি স্কুলের শিক্ষক মুকেশ জানগিড় তাঁর জীবন শেষ করেন ৷ পরিবারের দাবি, তিনি ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) কাজ নিয়ে সমস্যায় ছিলেন ৷ সেই চাপ থেকে চরম সিদ্ধান্ত নেন ৷ ওই শিক্ষক নাহরি কা বাস এলাকায় একটি প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতা করতেন ৷ তাঁকে বিএলও হিসাবে নিয়োগ করা হয় ৷ বিন্দায়াকার পুলিশ আধিকারিক বিনোদ বর্মা জানিয়েছেন, বিন্দায়াকা রেলওয়ে ক্রসিংয়ে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে নিজেকে শেষ করেন মুকেশ (45) ৷ আগামী বছর তামিলনাড়ু, পুদুচ্চেরি, কেরল, অসম ও পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট ৷ তাই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এই রাজ্যগুলিতে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে ৷