আবাসন বন্টন সংক্রান্ত দুর্নীতির ৬টি মামলায় শেখ হাসিনা-সহ আরও ৯৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করল বাংলাদেশের দুটি আদালত ৷ তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে ৷ সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে শুরু হবে সাক্ষ্য গ্রহণের প্রক্রিয়া ৷ বেশ কয়েক বছর আগে ঢাকার কাছে একটি উপনগরী তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার ৷ সেখানে আবাসন বন্টন নিয়ে ব্যাপাক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ৷ এই সংক্রান্ত মোট 6টি মামলা দায়ের হয়েছিল ৷ বৃহস্পতিবার তার মধ্যে ঢাকার চতুর্থ আদালতের বিশেষ বিচারক রবিউল আলম তিনটি মামলায় হাসিনাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন ৷ একটি মামলায় হাসিনা সহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠিত হয়েছে ৷ অন্য একটি মামলায় মুজিব-তনয়া ছাড়া আরও ১৮ জনের নাম আছে ৷ তিন নম্বর মামলায় হাসিনা ছাড়া রদওয়ান মুজিব সিদ্দিক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চার্জ গঠিত হয়েছে ৷ বিচারক সকলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন ৷ ১৩ অগস্ট থেকে মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে ৷ অন্যদিকে, ঢাকার পঞ্চম আদালতের বিশেষ বিচারক মহম্মদ আবদুল্লা আল মামুনও তিনটি মামলায় চার্জ গঠন করেছেন ৷ তার মধ্যে একটিতে হাসিনা সহ ১২ জনের নাম আছে ৷ অন্য একটি মামলায় হাসিনার পাশাপাশি তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সহ ১৭ জনের নাম আছে ৷ এই বিচারকের কাছে থাকা তৃতীয় মামলাতেও আরও ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠিত হয়েছে ৷ সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে ১১ অগস্ট থেকে ৷ দেশ ছাড়ার পর থেকে একাধিক মামলায় নাম জড়িয়েছে হাসিনার ৷ ২০২৪ সালের জুলাই-অগস্ট মাসে হওয়া ছাত্র আন্দোলন দমন করতে তিনি বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন ৷ তাতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে দাবি করে হাসিনার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করা হয়েছে ৷ গণহত্যার মামলাতেও তিনি অভিযুক্ত ৷ শুধু অভিযুক্ত হওয়া নয়, ইতিমধ্যে একটি মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্তও হয়েছেন ৷ আদালত অবমাননার অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২ জুলাই ছ’মাস কারাবাসের সাজা শুনিয়েছে বাংলাদেশের একটি আদালত ৷ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সংবাদপত্র ‘দ্য ডেলি স্টার’-এ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী বিচারপতি মহম্মদ গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আওয়ামী লীগ নেত্রীকে এই সাজা শুনিয়েছিল ৷ দেশ ছাড়ার পর সেই প্রথম কোনও মামলায় হাসিনার সাজা ঘোষণা হয়েছিল ৷ ওই ঘটনার সূত্রপাত বেশ কয়েক মাস আগে ৷ আওয়ামী লীগ নেত্রী হাসিনা ও নিষিদ্ধ ছাত্র লীগ নেতা শাকিব আলম বুলবুলের কথোপকথনের একটি অডিয়ো ভাইরাল হয় ৷ সেই অডিয়োর জেরে আদালত অবমাননার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন দু’জনেই ৷ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি পলাতক ছাত্রনেতাকেও দু’মাসে কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)।