মনসা পুজোর আগে পুরুলিয়া-বাঁকুড়ার জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। জঙ্গলমহলের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মনসা পুজোয় অর্ধদিবস ছুটির ঘোষণা করলেন তিনি। সোমবার মানবাজারের প্রশাসনিক সভা থেকে সরকারি ছুটির কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী । পাশাপাশি কলকাতার পর এবার পুরুলিয়ার পড়ুয়াদের মিড-ডে-মিল দেওয়ার ভার ইসকনের হাতে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি ঘোষণা করেন। এর পাশাপাশি কুড়মালি ভাষা ও বালির দাম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন তিনি। এদিনের সভায় 1296.25 কোটি টাকা খরচে নির্মিত জাইকা প্রকল্পের উদ্বোধন হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, মনসা পুজো উপলক্ষে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় সরকারি ছুটি থাকবে। আগামিকাল মনসা পুজো, তার আগের দিনই প্রশাসনিক মঞ্চ থেকে এই ঘোষণা করলেন তিনি। শুধু ছুটি নয়, পড়ুয়াদের মিড-ডে মিল নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতার পর এবার দ্বিতীয় ধাপে পুরুলিয়ায় মিড-ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব পেতে চলেছে ইসকন। খাবারের মান ও পুষ্টির উপর জোর দিয়ে সপ্তাহে আলাদা করে দু’দিন ডিম দেওয়ার কথাও জানান তিনি। তবে ইসকনের হাতে দায়িত্ব গেলেও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর রাঁধুনিদের কাজ যাবে না বলে স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ, এতদিন যারা মিড-ডে মিল রান্নার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের কাজ বহাল থাকছে। মানবাজারের মঞ্চ থেকে ফের জনকল্যাণ শিবিরের ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। নতুন শিবিরে বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা ভাতার জন্য তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আগের জনকল্যাণ শিবিরে যে পরিষেবাগুলি অনেকের নাগালের বাইরে থেকে গিয়েছিল এবার সেগুলি আরও সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে কুড়মালি ভাষা নিয়েও বড় বার্তা দেন বাংলার প্রশাসনিক প্রধান। কুড়মালি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। আবাস প্রকল্প নিয়েও পুরুলিয়ার মানুষের জন্য হল গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এদিনের মঞ্চ থেকে। তিনি জানান, বাড়ি তৈরির কাজে ব্যবহৃত বালির দাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে প্রতি ইউনিট 1200 টাকা। এর থেকে বেশি দাম নেওয়া যাবে না । বালির দাম নিয়ে গত তিন মাস ধরে টানাপোড়েন চলছিল । তার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহলের একাংশ।

