মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের আমলে চালু হওয়া জনপ্রিয় ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের নাম বদল হতে চলেছে ৷ নতুন সরকারের আমলে এই প্রকল্পের পরিবর্তিত নাম রাখা হচ্ছে ‘কন্যারত্ন’। বুধবার নবান্ন সভাঘরে স্কুলগুলিকে ‘কম্পোজিট গ্র্যান্ট’ প্রদানের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ৷ ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকেই পূর্বতন সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজ্যবাসীর মনে নানা প্রশ্ন ছিল। তবে ক্ষমতায় আসার পরই নতুন রাজ্য সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে চালু থাকা কোনও জনকল্যাণমুখী প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না ৷ সেই সূত্র ধরেই রাষ্ট্রসঙ্ঘের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে অনেকেরই যথেষ্ট আগ্রহ ছিল ৷ বুধবার সেই কৌতূহলের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান যে, স্কুল ছাত্রীদের বিদ্যালয়মুখী করতে এবং নারীশিক্ষার প্রসারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটি রাজ্যে অবশ্যই চালু থাকছে, তবে এখন থেকে ‘কন্যাশ্রী’-র পরিবর্তে এই প্রকল্প ‘কন্যারত্ন’ নামে পরিচিত হবে ৷ রাজ্যে প্রতি বছর 14 অগস্ট সাড়ম্বরে ‘কন্যাশ্রী দিবস’ পালিত হত। মুখ্যমন্ত্রী এদিন নিশ্চিত করেছেন যে, এ বছরও ওই নির্দিষ্ট দিনে অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হবে। তবে অনুষ্ঠানের ব্যানারে ‘কন্যাশ্রী’র বদলে নতুন নাম ‘কন্যারত্ন দিবস’ হিসেবেই তা উদযাপিত হবে। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এদিন স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি যে, আগে যেমন দু’টি ধাপে এই প্রকল্প চালু ছিল, তার পরিকাঠামো বা রূপরেখায় কোনও কাঠামোগত পরিবর্তন আসছে কি না। এদিন মূলত নামকরণের বিষয়টিই খোলসা করা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, এ বিষয়ে শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে। 2013 সালে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্প চালু করেন। এই প্রকল্পের অধীনে ছাত্রীরা এককালীন 25 হাজার টাকা পায়। তিনটি ধাপে এই প্রকল্পের টাকা পাওয়া যায়। 13 থেকে 18 বছর বয়সি ছাত্রীদের প্রতি বছর 1 হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ধাপে ছাত্রীর 18 বছর পূর্ণ হলে এবং অবিবাহিত থাকলে এককালীন 25 হাজার টাকা দেওয়া হয়। তৃতীয় ধাপে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের ছাত্রীদের জন্য এই সুবিধা দেওয়া হয়। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছাত্রীদের স্কুলছুট ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। এই প্রকল্প আন্তর্জাতিক পুরষ্কারও ছিনিয়ে নিয়ে এসেছে। 2017 সালে United Nations Public Service Award জেতে রাজ্যের ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্প ৷ প্রসঙ্গত, রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক ভবনগুলির রং থেকে শুরু করে বেশ কিছু প্রকল্পের নামে ইতিমধ্যেই বদল এনেছে বর্তমান সরকার। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার পূর্বতন সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প ‘কন্যাশ্রী’র নামও বদলে গেল। নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি আগামিদিনে এই প্রকল্পের নিয়মকানুন বা আর্থিক অনুদানের ক্ষেত্রে নতুন সরকার কোনও রদবদল করে কি না, এখন সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।