স্বাধীনতা দিবসের আগে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিকে ঘিরে উৎসবের বাতাবরণ তৈরি করছে সরকার ৷ এই কর্মসূচির সূচনা করে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, তাঁর সরকার রাজ্যে 70 লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণের কাজ শুরু করেছে ৷ দক্ষিণ কলকাতার গোপালনগর সার্ভে বিল্ডিং থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত এক শোভাযাত্রা মধ্য দিয়ে ঘর ঘর তিরাঙ্গা যাত্রার সূচনা করলেন শুভেন্দু। তিনি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী তাপস রায় ও দীপক বর্মন। ছিলেন, বিজেপির দক্ষিণ কলকাতা জেলা সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে দলের প্রবীণ নেতা শিশির বাজোরিয়া-সহ অনেকেই ৷ পরে হাজরার আয়োজিত সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পতাকা ও আলো দিয়ে সাজানো হবে। পাশাপাশি বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের মধ্যে দেশাত্মবোধ জাগিয়ে তুলতে বসে আঁকো প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে ৷ আগামী সোমবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে 50 হাজার মানুষকে নিয়ে একটি মেগা তিরঙ্গা যাত্রারও আয়োজন করা হয়েছে ৷ এই যাত্রায় তিনি নিজেও উপস্থিত থাকবেন। রেড রোডে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তির সামনে থেকে বিড়লা তারামণ্ডলের 7 নম্বর গেট পর্যন্ত এই তিরঙ্গা যাত্রা যাবে। দলমত ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত মানুষকে এই যাত্রায় অংশগ্রহণ করার আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের এই যাত্রাকে ঘিরে বিজেপি কর্মী সমর্থক থেকে শুরু করে অন্যদের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। শোভাযাত্রায় মহিলা মোর্চার সদস্যরা লাল পাড়ের সাদা শাড়ি পরে মিলছিল পা মেলান। ভারত মাতার সাজেও একজনকে দেখা যায় ৷ মহিলারা উলু দিয়ে শঙ্খ বাজিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে মঞ্চে স্বাগত জানান ৷ তাৎপর্যপূর্ণভাবে শোভাযাত্রা গোপালনগরের সার্ভে বিল্ডিং থেকে আসার সময় কালীঘাট মোড়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে বেশ কিছুক্ষণ থেমে থাকে ৷ খানিক পরে আবারও মিছিল এগোতে থাকে নিজের ছন্দে। মাতঙ্গিনী হাজরা থেকে শুরু করে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও ভগত সিংয়ের কাট আউট নিয়েও অনেকে সামিল হয়েছিলেন ৷ পরে হাজরার সভা থেকে শুভেন্দু আরও বলেন, “বিগত সরকার প্রধানমন্ত্রীর শুরু করা হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচিতে যুক্ত হত না । কিন্তু জনতা জনাদর্নের আশীর্বাদে পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম রাষ্ট্রবাদী সরকার তৈরি হয়েছে । সেই সরকার এই মহান কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে। এই বছর তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের ব্যবস্থাপনায় সারা রাজ্যে 70 লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণ করার একটি কর্মসূচি শুরু করেছি। সমস্ত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন হবে । আলোক মালায় সাজিয়ে তোলা হবে । পাশাপাশি বসে আঁকো প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে নানা রকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, আয়োজন করা হয়েছে।”

