মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের ইচ্ছায় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছেন ৷ সেই সময় তিনি বৈশ্বিক মিত্রদের সঙ্গে কোনও পরামর্শই করেননি ৷ কিন্তু এখন সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়টি বিবেচনা করার মুহূর্তে তিনি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে-এই যুদ্ধের ফলে যে অনিচ্ছাকৃত ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে, তা সামাল দিতে তিনি এখন বিশ্বের সহায়তা প্রত্যাশা করছেন । যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় ইউরোপের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প ক্রমশই বেশি বিরক্ত হয়েছেন । তিনি এই সত্যটিকেও একরকম উপেক্ষা করছেন যে-তার নিজের সিদ্ধান্তের কারণেই গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে; আর ইরান সেই সরবরাহকে অনেকটাই রুদ্ধ করে দিতে সক্ষম হয়েছে—যদিও ট্রাম্প ক্রমাগত দাবি করে চলেছেন যে, ইরান নাকি ইতিমধ্যেই ‘সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস’ হয়ে গিয়েছে । মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, মার্কিন বাহিনী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত থেকে বেরিয়ে যেতে পারে । তিনি জোর দিয়ে জানান, তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিষ্ক্রিয় করার মূল লক্ষ্য ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই অর্জন করেছে । মার্কিন অভিযান শেষ করার সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় দুই বা তিন সপ্তাহ লাগবে । এই অভিযান প্রায় শেষের দিকে । যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিক হামলার মাধ্যমে ইরানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে । আমাদের একটাই লক্ষ্য ছিল, তাদের কোনও পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না, এবং সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে । তাদের কোনও পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না ।” প্রেসিডেন্ট আরও ইঙ্গিত দেন যে ইরানের পরিস্থিতি মৌলিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে । তাঁর কথায়, “শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে ৷ যুক্তরাষ্ট্র এখন অনেক বেশি যুক্তিবাদী মানুষের সঙ্গে কাজ করছে । ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে চলমান সামরিক অভিযানের লক্ষ্য হল ইরানের সক্ষমতাকে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাহত করা নিশ্চিত করা ।” মঙ্গলবার দিনের শুরুতেই প্রেসিডেন্ট সোশাল মিডিয়া আমেরিকার দুই ঘনিষ্ঠ মিত্র- ফ্রান্স ও ব্রিটেন- এর ওপর ক্ষোভ উগরে দেন; একই সঙ্গে তিনি বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “তোমরা গিয়ে তোমাদের নিজেদের তেল নিজেরাই সংগ্রহ করো ! এবং নিজেদের স্বার্থে কীভাবে লড়াই করতে হয়, তা শিখতে শুরু করো । হরমুজ প্রণালীর কারণে যেসব দেশ জেট জ্বালানি পাচ্ছে না—যেমন যুক্তরাজ্য, যারা ইরানের ওপর সামরিক আঘাত হানার (decapitation) এই অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল—তাদের প্রতি আমার একটি পরামর্শ রইল: প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তেল কেনো, আমাদের কাছে প্রচুর মজুত আছে; এবং দ্বিতীয়ত, এতদিন ধরে জমিয়ে রাখা সাহসটুকু এবার সঞ্চয় করো, হরমুজ প্রণালীতে যাও এবং স্রেফ ‘ছিনিয়ে নাও’ (TAKE IT)।”