কোনও আলোচনা ছাড়াই পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের বদল নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি দেওয়ার পরদিনই ফের বদলি ! দু’জন এডিজি পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিক সহ চার জন পুলিশ কমিশনারকে বদলির নোটিশ জারি করল নির্বাচন কমিশন ৷ সেই সঙ্গে ১২ পুলিশ সুপারকেও বদলি করল কমিশন ৷ এর আগে ভোট ঘোষণার দিন গভীর রাতে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল ঘটে ৷ মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে বদলির পর সরানো হয় রাজ্যের ডিজিপি পীযূষ পাণ্ডে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতীম সরকার, এডিজি আইনশৃঙ্খলা বিনীত গোয়েলকে ৷ এদিন সরানো হল মধ্য কলকাতার ডিসি ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কেও ৷

এডিজি-আইজিপি পদে বদল

  • ১৯৯৭ সালের আইপিএস ড. রাজেশ কুমার সিং হলেন দক্ষিণবঙ্গের এডিজি ও আইজিপি ৷
  • কে জয়রামন, ১৯৯৭ সালের আইপিএস ৷ তাঁকে উত্তরবঙ্গের এডিজি ও আইজিপি করা হল ৷
  • আসানসোল-দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার হলেন ড. প্রণব কুমার ৷ তিনি ২০০৩ সালের আইপিএস ৷
  • অখিলেশ কুমার চতুর্বেদী ২০০৫ সালের আইপিএস ৷ তাঁকে হাওড়ার পুলিশ কমিশনার করা হল ৷
  • অমিত কুমার সিং, ২০০৯ সালের আইপিএস ৷ তাঁকে ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার করা হল ৷
  • সুনীল কুমার যাদব, ২০০৯ সালের আইপিএস ৷ চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার হলেন ৷

এসপি বদল

  • পুষ্পা, ২০১২ সালের আইপিএস ৷ তিনি হলেন বারাসত পুলিশ জেলার এসপি ৷
  • ২০১৬ সালের আইপিএস জশপ্রীত সিং কোচবিহারের এসপি হলেন ৷
  • সূর্য প্রতাপ যাদব, ২০১১ সালের আইপিএস, বীরভূমের এসপি হয়েছেন ৷
  • রাকেশ সিং ২০১৪ সালের এসপিএস (স্টেট পুলিশ সার্ভিস), ইসলামপুর পুলিশ জেলার এসপি হলেন ৷
  • কুমার সানি রাজ, ২০১৭ সালের আইপিএস, হুগলি গ্রামীণের এসপি হলেন ৷
  • ঈশানি পাল ২০১৩ সালের আইপিএস ৷ ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার এসপি হলেন ৷
  • ২০১৩ সালের আইপিএস সচিন ৷ তাঁকে মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার এসপি করা হল ৷
  • অলকানন্দা ভোওয়াল, ২০১৭ সালের আইপিএস, বসিরহাট পুলিশ জেলার এসপি হলেন ৷
  • অনুপম সিং, ২০১৫ সালের আইপিএস, মালদার এসপি হলেন ৷
  • অংশুমান সাহা ২০১২ সালের আইপিএস, পূর্ব মেদিনীপুরের এসপি হলেন ৷
  • শ্রীকান্ত জগন্নাথরাও, ২০২৫ সালের আইপিএস, কলকাতার ডিসি (উপ-নগরপাল, মধ্য) সেন্ট্রাল হলেন ৷
  • সুরিন্দর সিং, ২০১৬ সালের আইপিএস, জঙ্গিপুরের এসপি হলেন ৷
  • পাপিয়া সুলতানা এসপিএস, ২০১৫ সালের, পশ্চিম মেদিনীপুরের এসপি হলেন ৷

এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে ৷ এই সংক্রান্ত রিপোর্ট ১৮ মার্চ সকাল ১১টার মধ্যে কমিশনের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন ৷

গত রবিবার ১৫ মার্চ বিকেলে দিল্লি থেকে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ ৷ সঙ্গে সঙ্গে চালু হয় আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি ৷ এই অবস্থায় প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের অধীনে কাজ করে ৷ ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গভীর রাতে রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল হয় ৷

রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মিনাকে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন । নয়া মুখ্যসচিব হন দুষ্যন্ত নারিয়ালা ৷ তিনি ১৯৯৩ সালের আইএএস ৷ অন্যদিকে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের প্রধান সচিব পদে স্থানান্তরিত করা হয় ১৯৯৭ সালের আইএএস আধিকারিক সঙ্ঘমিত্রা ঘোষকে ৷

আইএএস দুষ্যন্ত নারিয়ালা একসময় শিক্ষা দফতরের সচিব ছিলেন ৷ পরে তিনি বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর এবং তারপর উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব হন ৷ গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-র প্রধান সচিব পদের দায়িত্বও সামলেছেন ৷ প্রবীণ আইএএস সংঘমিত্রা ঘোষ অনেক দিন ধরেই নারী-শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরের দায়িত্বে রয়েছেন ৷ রাজ্যের ২৯৪টি আসনে একুশের বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল আট দফায় ৷ এবার কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে হিংসা রুখতে সর্বোচ্চ দু’দফায় ভোট করার কথা জানিয়েছিল বিরোধীরা ৷ সেই পরামর্শ মেনে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দু’দফায় ভোট হবে বলে ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন ৷ প্রথম দফায় ১৫২ ও দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে ৷ ভোটগণনা ৪ মে ৷ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল ।