দৃষ্টিহীন শিক্ষকরা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন না করায় তাঁদের শো-কজ করা হয়েছিল। এবার নির্বাচন কমিশনকে এই শো-কজের বিষয়টি বিবেচনা করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চ কমিশনকে বিষয়টি মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করার নির্দেশও দিয়েছে। শুক্রবার দৃষ্টিহীন শিক্ষকদের সংগঠন ‘অল বেঙ্গল ব্লাইন্ড টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর আইনজীবী কলকাতা হাইকোর্টে জানান, নির্বাচনের রুল অনুযায়ী দৃষ্টিহীন শিক্ষকরা কখনও নির্বাচনের প্রিসাইডিং অফিসারের কাজে যোগদান করতে পারেন না। তা সত্ত্বেও সদ্য সমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্রাচনে তাঁদের এই কাজে নিযুক্ত করা হয়। তাঁরা কাজে যোগ দিতে পারেননি ৷ আর তাই তাঁদেকে শো-কজও করেছে নির্বাচন কমিশন। আবেদনকারীর দাবি এই বিষয়ে আদালত হস্তক্ষেপ করুক। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চ আবেদন শোনার পর নির্দেশে জানিয়েছে, আবেদনকারী অ্যাশোসিয়েশনের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানিয়ে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার দিন থেকে 90 দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে এবং অ্যাসোসিয়েশনকে জানিয়ে দিতে হবে ৷ আদালত আরও জানিয়েছে, এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত নেবে তাতে সন্তুষ্ট না হলে দৃষ্টিহীন শিক্ষকরা আবারও হাইকোর্টের দ্বরাস্থ হওয়ার সুযোগ পাবেন ৷ উল্লেখ্য, রাজ্যের প্রায় দু’হাজার এমন শিক্ষককে নির্বাচনের কাজে পোলিং অফিসার হিসেবে নিযুক্ত করা হয় যাঁরা দৃষ্টিহীন। সেই কাজে তাঁরা যোগদান করতে না পারায় তাদের বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নেওয়া হয়েছিল কমিশনের তরফে। তা নিয়েই শেষমেশ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁরা ৷