প্রায় সাড়ে ন’ঘন্টা জেরার পর অবশেষে ইডির হাতে গ্রেফতার সোনা পাপ্পু। সোমবার রাতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ কলকাতায় প্রোমোটারির কাজ করার আগে স্থানীয় কাউন্সিলদের মোটা টাকা ঘুষ দিতে হত প্রমোটারদের। কাউন্সিলরদের হয়ে এই টাকা আদায়ের ভূমিকায় থাকত সোনা পাপ্পু নিজে। এভাবে তোলাবাজির পাশাপাশি জমি দখলের অভিযোগও আছে পাপ্পুর বিরুদ্ধে ৷ ইডির হাতে আরও বেশ কিছু তথ্য় আছে ৷ সেসব নিয়ে পাপ্পকে জেরা করবেন তদন্তকারীরা ৷ তাঁরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন, প্রোমোটিংয়ের ব্যবসাকে ঘিরে কোটি কোটি টাকার সিন্ডিকেট রাজ চলত ৷ আর এই গোটা লেনদেনটাই হত সোনা পাপ্পুকে সামনে রেখে। এদিন মোট তিন দফায় সোনা পাপ্পুকে জেরা করা হয়। তার কথায় একাধিক অসঙ্গতি থাকায় ম্যারাথন জেরার পর সোমবার রাতে পাপ্পুকে গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ৷ ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, আদালতে পেশ করে সোনা পাপ্পুকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। তার থেকে আরও বেশ কয়েকটি বিষয় জানতে চান ইডির তদন্তকারীরা ৷ তিন মাস ধরে বেপাত্তা থাকার পর অবশেষে এদিন সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সের ইডি দফতরে হাজিরা দেয় সোনা পাপ্পু । তার সঙ্গে ইডি দফতরে যান স্ত্রীও । ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার সময় সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেন, গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কা আছে কি না ৷ জবাবে সোনা পাপ্পু বলে, “আমি কোনও দোষ করিনি ৷ জীবনে কোনওদিন তোলাবাজি করিনি ।” ইডির তদন্তকারীরা সোনা পাপ্পুকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে মূলত জানতে চাইবেন যে কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব তার সঙ্গে ওঠাবসা করতেন ? এছাড়া তাদের সঙ্গে কী কী বিষয়ে পাপ্পুর লেনদেন চলত সেটাও খতিয়ে দেখা হবে ৷ মূলত বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথমেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন রাজ্য থেকে সমস্ত রকমের সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ করা হবে। সেই সূত্র ধরে তদন্ত নেমে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা প্রথমেই জানতে পারেন যে মূলত এই সোনা পাপ্পুকে সামনে রেখে দক্ষিণ কলকাতার যাবতীয় সিন্ডিকেটরাজ চলত। সোনা পাপ্পুর সঙ্গে ধৃত পুলিশ কর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ছাড়াও বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মীর যোগাযোগ ছিল বলেও জানতে পেরেছে ইডি ৷ তদন্তকারীদের অনুমান এই পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কোনও না কোনও সময় পাপ্পুর আর্থিক লেনদেন হয়েছিল ৷ আর সেই লেনদেনের ফলে পুলিশ কর্মীরা লাভবানও হয়েছিলেন।

