চারদিনের ব্যবধানে ফের রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক তথা বর্তমান প্রার্থী দেবাশিস কুমারকে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট ৷ সূত্রের খবর, জমি সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে দেবাশিস কুমারকে ফের তলব করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ৷ এর আগে গত সোমবার তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন তদন্তকারীরা । কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, একাধিক ব্যবসায়িক সংস্থার আর্থিক লেনদেন ও জমি সংক্রান্ত অনিয়মের সূত্র ধরেই উঠে আসে তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক দেবাশিস কুমারের নাম । অভিযোগ, এক ব্যবসায়ী বেআইনি জমির মালিকানাকে আইনি প্রক্রিয়ায় মসৃণ করতে দেবাশিস কুমারের সহায়তা চেয়েছিলেন । সেই সূত্রেই জমি সংক্রান্ত এই লেনদেনে তৃণমূল বিধায়কের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে তদন্তকারীদের মধ্যে । সূত্রে খবর, আজকের জিজ্ঞাসাবাদে মূলত এই জমি লেনদেন, আর্থিক লেনদেনের উৎস, এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে । পাশাপাশি, কোনও রকম বেআইনি আর্থিক সুবিধা আদানপ্রদান হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইডির তলবে সাড়া দিয়ে এদিন দুপুরে সিজিওতে আসেন তৃণমূল বিধায়ক ৷ যদিও জমি দুর্নীতি অভিযোগ নিয়ে তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হননি ৷ জানা যাচ্ছে, এই মামলায় শনিবার দু’জন ব্যবসায়ীর একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয় । সেই তল্লাশিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার । প্রাথমিকভাবে অনুমান, জমি লেনদেনের নামে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করতেন ওই ব্যবসায়ী । সেই সূত্রেই উঠে এসেছে শাসকদলের বিধায়কের নাম ৷ এদিকে ইডির একাধিক সূত্রের ইঙ্গিত, উদ্ধার হওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম সামনে আসতে পারে । ফলে এই তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে । অন্যদিকে, এই তলবকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে । ভোটের মুখে শাসকদলের বিধায়ককে ইডির তলবকে কেন্দ্র করে ফের তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির ৷ অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে । এখন দেখার, ইডির জেরায় নতুন করে কী তথ্য সামনে আসে এবং তা আদৌ রাজনৈতিক সমীকরণে কোনও প্রভাব ফেলে কি না৷

