বিরোধী সাংসদদের হট্টগোলের আবহে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিল, 2026 পাঠিয়ে দেওয়া হল যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে। লোকসভার 21 এবং রাজ্যসভার 10 জন সাংসদ থাকবেন কমিটিতে। শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম সপ্তাহে রিপোর্ট পেশ করবে জেপিসি। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় বিদেশ থেকে আসা অনুদান নিয়ন্ত্রণ করতে এই বিল এনেছিল সরকার । তবে বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে বিলটি পাঠানো হল জেপিসির কাছে। বুধবার লোকসভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই । তখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের লোকসভায় উপস্থিতির দাবি জানাচ্ছিলেন বিরোধীরা। যদিও তার আগেই এদিন শাহ জানান, বিরোধীরা সম্মত হলে সরকার ছাত্রদের আন্দোলন নিয়ে কথা বলতে রাজি । তিনি নিজেও সংসদে হাজির হয়ে সমস্ত প্রশ্নের জবাব দেবেন । গঠিত হতে চলা যৌথ সংসদীয় কমিটিতে লোকসভা থেকে কোন 21 জন সাংসদ থাকবেন সেই নামের তালিকা তৈরি করবেন স্পিকার ওম বিড়লা । আবার রাজ্যভার 10 সদস্য়দের নাম ঠিক করবেন চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণন । রাইয়ের আনা প্রস্তাব পাশ হওয়ার আগে এই বিল নিয়ে আরও একবার নিজেদের প্রতিবাদের কারণ স্পষ্ট করে কংগ্রেস । দলের প্রবীণ সাংসদ কেসি বেণুগোপাল বলেন, “সংখ্যালঘু এবং এনজিওদের নিশানা করতেই সরকার এই বিল এনেছে। ” প্রসঙ্গত, আগেই হাত শিবির অভিযোগ করেছিল, বিশেষ সম্প্রদায়ের কথা মাথায় রেখেই মোদি সরকার এমন একটি বিল এনেছে । কংগ্রেসের অভিযোগ খারিজ করে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, “কাউকে নিশানা করতে বিলটি আনা হয়নি। কারও যদি কোনও আপত্তি থাকে তাহলে তিনি জেপিসির দ্বারস্থ হতে পারেন। ” প্রস্তাব পেশ হওয়ার সময় লোকসভা পরিচালনা করছিলেন বিজেপির প্রবীণ সাংসদ জগদম্বিকা পাল । তিনি জানান, বিরোধীদের দাবি মেনে বিলটিকে জেপিসিতে পাঠানো হয়েছে । সেখানে এ সংক্রান্ত ব্যাপারে বিস্তারিত চর্চা হবে । হট্টগোলের আবহে শাহকে কটাক্ষ করেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও । সংসদ বিষয়র মন্ত্রীকে লক্ষ্য করে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “বিজেপি জানাক আজ পর্যন্ত তাদের আনা কোন বিলটি সংখ্যালঘু বিরোধী নয় ।” এই মন্তব্যেরও বিরোধিতা করেন রিজিজু । সংসদে মন্তব্য করতে গেলে দ্বায়িত্ববোধের পরিচয় দিতে হয় জানিয়ে মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ” আমি অখিলেশজিকে চ্যালেঞ্জ করছি- এই বিলেক কোন অংশটি সংখ্যালঘু বিরোধী সেটা তিনি আমাদের দেখিয়ে দিন । ভারতীয় গণতন্ত্রের আলাদা গরিমা রয়েছে । সেটা ভুলে গেলে চলবে না । সংসদের নিয়ম বলে একটা বিষয় রয়েছে । “

