বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে এই ডুয়েল দেখেছিল দক্ষিণ 24 পরগনার ফলতা৷ সিংহম বলে পরিচিত পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মাকে হুঁশিয়ারি দিতে নিজেকে পুষ্পা বলে দাবি করেছিলেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান৷ রাজ্যে তৃণমূল জমানা শেষ হয়ে বিজেপির সরকার তৈরি হতেই পুষ্পা নাম নিয়েই কটাক্ষের মুখে পড়তে হল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ এই নেতাকে৷ শনিবার এই কটাক্ষ করেন স্বয়ং পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ সাধারণ মানুষের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, ‘‘কোথায় পুষ্পা?’’ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার 293 আসনের ফলাফল ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে৷ ফলতার ফল প্রকাশিত হয়নি৷ কারণ, সেখানে ভোটের দিন তৃণমূলের বিরুদ্ধে রিগিংয়ের অভিযোগ ওঠে৷ তাই সেখানে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন৷ আগামী 21 মে ওই ভোট হবে৷ তার আগে ফলতায় রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। সেই আবহেই শনিবার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে ফলতায় কর্মিসভা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জনসভা থেকে একদিকে যেমন বিরোধীদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি, অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ ভোটের বার্তা দিয়ে সাধারণ ভোটারদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেন। পাশাপাশি ফলতা বিধানসভার উন্নয়নের জন্য বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের আশ্বাসও দেন মুখ্যমন্ত্রী। সভামঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘ফলতা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও ভোটে বাধার রাজনীতি দেখেছে।’’ তাঁর অভিযোগ, বহু সাধারণ ভোটার অতীতে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেননি। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেকে বলেছেন, এতদিন ভোট দিতে পারিনি। গত দশ বছর ফলতা বিধানসভার বহু মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এর হিসাব কি হবে না?” মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এবার প্রশাসন সজাগ থাকবে এবং সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার হয়ে ভোট চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘শুধু জয় নয়, বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করতে হবে। আমি আপনাদের কাছে ভোট চাইতে এসেছি। এই পুনর্নির্বাচনে শুধু দেবাংশুকে জেতানো নয়, এক লক্ষের বেশি ভোটে জিতিয়ে আমাদের কাছে পাঠাবেন।” তিনি জানান, ফলতা বিধানসভায় মোট ভোটার প্রায় 2 লক্ষ 25 হাজার এবং মানুষের সমর্থনই তাঁদের সবচেয়ে বড় শক্তি। জনসভা থেকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। নাম না করেই একাধিক নেতাকে নিশানা করে তিনি জানান, সাধারণ নির্বাচনের সময় যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বক্তব্যের মাঝেই তিনি বলেন, “ওই ডাকাতটা কোথায়, পুষ্পা না কী যেন নাম। যত অভিযোগ করেছে, সব কিছুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। গুন্ডামি করতে দেব না। নিশ্চিন্ত থাকুন।” তাঁর এই মন্তব্যে সভাস্থলে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। ডায়মন্ড হারবার ও ফলতা অঞ্চলে অতীতে রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার বরদাস্ত করা হবে না। যাঁরা প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। আমি পুলিশ-প্রশাসনকে বলেছি, সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করতে। মানুষের উপর অন্যায় অত্যাচার হলে সব সামনে আনা হবে।” সভা শেষে ফলতার উন্নয়ন নিয়ে বড় প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এলাকার রাস্তা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পরিকাঠামোর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ফলতা বিধানসভার জন্য বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা পাশে থাকুন, উন্নয়নের দায়িত্ব আমার।”