আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরূপ ও দুর্নীতির মামলায় বিচার প্রক্রিয়া চালানোর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিলেন রাজ্যপাল । মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তার নিজের সোশাল মিডিয়ায় এই নির্দেশ প্রকাশ করেছেন । রাজ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের তরফে জারি হওয়া নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ‘প্রসিকিউশন স্যাংশন’ প্রদান করা হয়েছে । সরকারি নথি অনুযায়ী, সিবিআইয়ের হাতে থাকা তদন্তে উঠে এসেছে, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনাকাটা, পরিষেবা সংক্রান্ত চুক্তি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাজে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে । কলকাতা হাইকোর্ট গত 23 অগস্ট, 2024 তারিখে একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে জারি করা আদেশে এই বিষয়টি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল । আদালতের সেই নির্দেশের পর, টালা থানায় দায়ের করা এফআইআর-এর তদন্তভার সিবিআই-এর দুর্নীতি দমন শাখা (Anti-Corruption Branch) গ্রহণ করে ।
সিবিআই তদন্তে প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের পাশাপাশি কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নামও উঠে আসে । তাতেই সিবিআই সন্দীপ ঘোষ এবং তিনটি প্রতিষ্ঠানের – ‘মা তারা ট্রেডার্স’, ‘ঈশান ক্যাফে’ এবং ‘ক্ষমা লৌহ’র বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা (regular case) দায়ের করে । এই মামলাটি ফৌজদারি ষড়যন্ত্র, প্রতারণা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহের অধীনে দায়ের করা হয়েছে । অভিযোগ, সরকারি অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম, প্রতারণা এবং যোগসাজশের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে । তদন্তকারী সংস্থা ভারতীয় দণ্ডবিধির ফৌজদারি ষড়যন্ত্র ও প্রতারণা সংক্রান্ত ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে । পরবর্তীতে ইডি এই মামলায় আর্থিক তছরূপ প্রতিরোধ আইনের আওতায় পৃথক তদন্ত শুরু করে । কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, দুর্নীতি ও প্রতারণা সংক্রান্ত যে অভিযোগগুলি সামনে এসেছে, সেগুলি আর্থিক তছরূপ প্রতিরোধ আইনের নির্ধারিত অপরাধ বা ‘সিডিউলড অফেন্স’-এর মধ্যে পড়ে । সেই সূত্রে একটি ইসিআইআর নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু হয় । তদন্তে আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তি, চুক্তিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয় বলে জানা গিয়েছে । সরকারি নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, এফআইআর, তদন্তকারী সংস্থার রিপোর্ট, নথিপত্র এবং মামলার সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর রাজ্যপাল প্রাথমিকভাবে মনে করেছেন যে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার মতো যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে । সেই কারণেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চালানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে । নথিতে আরও বলা হয়েছে, রাজ্যপালই সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে পদ থেকে অপসারণের ক্ষেত্রে ‘কম্পিটেন্ট অথরিটি’ হওয়ায় তাঁর অনুমোদনক্রমেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে । রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষ সচিব ডঃ অমিত দান ওই নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছেন, জনস্বার্থে এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে ।

