অপেক্ষার অবসান! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সম্মতিক্রমে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে খবর। ৪১ জন মন্ত্রির দায়িত্ব ভাগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী (তার মধ্যে তিনিও একজন)। স্বরাষ্ট্র, আইন ও বিচার, ভূমি ও ভূমিরাজস্ব এবং বিদ্যুৎ- এই গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলি নিজের হাতেই রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ণমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নেওয়া দীপক বর্মন পেলেন শিক্ষাদপ্তর। অর্থমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছন স্বপন দাশগুপ্ত, স্বাস্থ্য দপ্তর পেয়েছেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তবে নিশীথ প্রামাণিকের দায়িত্ব ভাগ করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রক তাঁর কাছে থাকলেও, ক্রীড়া দপ্তর গিয়েছে ইন্দ্রনীল খাঁর কাছে। শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে বিজেপি এবার শিক্ষা দপ্তরকে দুই ভাগে ভাগ করেছে। উচ্চশিক্ষা পাচ্ছেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং স্কুলশিক্ষা দপ্তর সামলাবেন উত্তরবঙ্গের বিজেপি নেতা দীপক বর্মন। সঙ্ঘ ও বিজেপির আদর্শগত মাপকাঠিতে এই দুই নেতার নিয়োগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য মন্ত্রীদের দায়িত্বও নিশ্চিত হয়েছে। দিলীপ ঘোষ পেয়েছেন পঞ্চায়েত, কৃষি বিপণন ও প্রাণিসম্পদ দফতর। অগ্নিমিত্রা পাল নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ এবং পুর ও নগরোন্নয়নের দায়িত্ব সামলাবেন। অশোক কীর্তনিয়া খাদ্য ও সরবরাহ এবং ক্ষুদিরাম টুডু আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী হয়েছেন। যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি ইন্দ্রনীল খাঁ ক্রীড়া, যুব বিষয়ক এবং ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব পাচ্ছেন। শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষকে পর্যটন দপ্তর এবং অর্জুন সিংহকে পরিবহণ ও শ্রম দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কৃষিমন্ত্রী হিসেবে দুধকুমার মণ্ডল-এর নাম নিয়েও আলোচনা চলছে। দীর্ঘদিন পর রাজ্যে পালাবদলের পর এই মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে প্রশাসন ও সংগঠন-উভয় ক্ষেত্রেই বিজেপির লক্ষ্য স্পষ্ট। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আশা, এই নতুন মুখেরা রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এই তালিকা ঘোষণার সময় বা দিনক্ষণ এখনও সরকারিভাবে জানানো হয়নি। তবে বিজেপি সূত্রের খবর, শেষ মুহূর্তে তালিকার কিছু ছোটখাটো অদলবদল হতে পারে।

শুভেন্দু অধিকারী: মুখ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রী, ভূমি এবং ভূমি সংস্কার, উদ্বাস্তু পুনর্বাসন দপ্তর, বিদ্যুৎ দপ্তর, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর, কর্মিবর্গ এবং প্রশাসনিক সংস্কার (PAR)

দীপক বর্মন: স্কুলশিক্ষা দপ্তর, আবাসন দপ্তর, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প দপ্তর, বস্ত্র

জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়: উচ্চ শিক্ষা দপ্তর, কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ

তাপস রায়: শিল্প, বাণিজ্য, সরকারি উদ্যোগ পুনর্গঠন দপ্তর এবং অপ্রচলিত ও নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎস দপ্তর।

স্বপন দাশগুপ্ত: অর্থ দপ্তর

শঙ্কর ঘোষ: পরিষদীয় বিষয়ক, পর্যটন দপ্তর

শারদ্বত মুখোপাধ্যায়: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর

অর্জুন সিং: শ্রম ও পরিবহণ দপ্তর

নিশীথ প্রামাণিক: উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন, জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন দপ্তর

অশোক কীর্তনিয়া: খাদ্য ও সরবরাহ, সমবায় দপ্তর

দিলীপ ঘোষ: পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, কৃষি বিপণন

ক্ষুদিরাম টুডু: আদিবাসী উন্নয়ন, সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর

অগ্নিমিত্রা পাল: পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর

মনোজকুমার ওরাওঁ: বন ও পরিবেশ

গৌরীশঙ্কর ঘোষ: অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ, গ্রন্থাগার ও মাস এডুকেশন

কল্যাণ চক্রবর্তী: তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স দপ্তর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি দপ্তর

অরূপকুমার দাস: সেচ ও জলপথ দপ্তর

অজয়কুমার পোদ্দার: জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর এবং পূর্ত দপ্তর

দুধকুমার মণ্ডল: কৃষি দপ্তর


মালতী রাভা রায়: নারী ও শিশু উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ দপ্তর, স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও স্ব-রোজগার দপ্তর এবং কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ দপ্তর।

রাজেশ মাহাতো: প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তর এবং মৎস্য দপ্তর।

ইন্দ্রনীল খাঁ: যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তর এবং ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তর।


জোয়েল মুর্মু: আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তর এবং সেচ ও জলপথ দপ্তর

হরেকৃষ্ণ বেরা: উচ্চশিক্ষা দপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তর

আনন্দময় বর্মন: পরিবহণ দপ্তর এবং অর্থ দপ্তর

অশোক দিন্দা: কৃষি বিপণন দপ্তর এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প ও বস্ত্র দপ্তর

নদিয়ারচাঁদ বাউরি: পূর্ত দপ্তর এবং অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তর

বিশাল লামা: স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর

শান্তনু প্রামাণিক: খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন দপ্তর

মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র: শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ দপ্তর এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি দপ্তর

উমেশ রাই: সংসদীয় বিষয়ক দপ্তর এবং নগরোয়ন ও পুর বিষয়ক দপ্তর

পূর্ণিমা চক্রবর্তী: তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং পর্যটন দপ্তর

কৌশিক চৌধুরী: স্কুল শিক্ষা দপ্তর এবং অগ্নি ও জরুরি পরিষেবা দপ্তর

ভাস্কর ভট্টাচার্য: জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর, শ্রম দপ্তর

দিবাকর ঘরামি: সমবায় দপ্তর, বন দপ্তর এবং পরিবেশ দপ্তর

অমিয় কিস্কু: খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যানপালন দপ্তর এবং কৃষি দপ্তর

কলিতা মাজি: আবাসন দপ্তর

গার্গী দাস ঘোষ: বিদ্যুৎ দপ্তর এবং অপ্রচলিত ও নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎস দপ্তর

বিরাজ বিশ্বাস: আইন দপ্তর, বিচার দপ্তর এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর

দীপঙ্কর জানা: ভূমি ও ভূমি সংস্কার ও উদ্বাস্তু ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তর এবং সুন্দরবন বিষয়ক দপ্তর

সুমনা সরকার: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর