উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এনডিএ’র মতো ‘দাক্ষিণাত্য নীতি’ নিল ‘ইন্ডিয়া’ জোটও ৷ জগদীপ ধনখড়ের উত্তরসূরি হিসেবে উপ-রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী বেছে নিল ‘ইন্ডিয়া’। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বি সুদর্শন রেড্ডিকে মনোনিত করেছে ইন্ডিয়া শিবির ৷ মঙ্গলবার দুপুরে উপ-রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা এই প্রাক্তন বিচারপতির নাম ঘোষণা করেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে । খাড়গে বলেন, “ইন্ডিয়া ব্লক সর্বসম্মতিক্রমে উপ-রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে একজনকে বেছে নিয়েছে ৷ সমস্ত বিরোধী দল একটি নামে সহমত পোষণ করায় আমি খুশি ৷ এটি গণতন্ত্রের বড় সাফল্য ৷” তিনি আরও বলেন, “প্রাক্তন বিচারপতি রেড্ডি ভারতের অন্যতম বিশিষ্ট আইনজ্ঞ। কর্মজীবনে তিনি অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের বিচারপতি, গুয়াহাটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং পরে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ।” এনডিএ-র প্রার্থী তামিলনাড়ুর রাধাকৃষ্ণনকে সমর্থন না-করা ডিএমকে-এর কাছে যেমন কঠিন, ঠিক তেমনই ইন্ডিয়া’র প্রার্থী অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন বিচারপতি বি সুদর্শন রেড্ডিকে সমর্থন না-করা সহজ হবে না টিডিপি, ওয়াইএসআরসিপি এবং বিআরএস-এর ৷ যদিও ওয়াইএসআরসিপি ইতিমধ্যেই এনডিএ মনোনীত প্রার্থীর প্রতি তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছে । দু’দিন আগেই উপ-রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে এনডিএ ৷ রবিবার মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল সিপি রাধাকৃষ্ণনকে উপ-রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা ৷ তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন সাংসদ রাধাকৃষ্ণনকে এনডিএ শিবির বেছে নেওয়ার পর দু’দিনের মধ্যেই দক্ষিণের আর এক রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা প্রাক্তন বিচারপতির নাম উপ-রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে দিল ইন্ডিয়া ব্লক ৷ 1946 সালের 8 জুলাই জন্মগ্রহণ করেন বিচারপতি রেড্ডি ৷ 1995 সালের 2 মে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন ৷ পরবর্তীকালে 2005 সালের 5 ডিসেম্বর গুয়াহাটি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন । দু’বছর পর 2007 সালের 12 জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হন এবং 2011 সালের 8 জুলাই অবসর গ্রহণ করেন । এছাড়াও তিনি ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনি উপদেষ্টা এবং আইনজীবী ছিলেন ৷ বিচারপতি রেড্ডি 2013 সালের মার্চ মাসে গোয়ার প্রথম লোকায়ুক্ত হিসেবে নিযুক্ত হন ৷ কিন্তু ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে 7 মাসের মধ্যেই পদত্যাগ করেন । গত 21 জুলাই সংসদে বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনই হঠাৎ শারীরিক কারণে উপ-রাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফা দেন জগদীপ ধনখড় ৷ 2027 সালের অগস্ট মাসে তাঁর অবসর নেওয়ার কথা ছিল ৷ কিন্তু ধনখড়ের পদত্যাগের কারণে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই উপ-রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন হচ্ছে ৷ আগামী 9 সেপ্টেম্বর সংসদের উচ্চ ও নিম্ন কক্ষের সাংসদরা ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের পরবর্তী জগদীপ ধনখড়ের উত্তরসূরি বেছে নেবেন ৷