প্রায় দু’বছর ধরে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে ৷ দুই দেশই এই টানাপোড়েন মিটিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ফের স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে ৷ এই পরিস্থিতি নতুন বিতর্ক তৈরি হল বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যা নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ৷ শেখ হাসিনার অনুষ্ঠানের জেরে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে বাংলাদেশ জানিয়েছে ৷ যদিও মঙ্গলবার ভারতের তরফে জানানো হয়েছে যে এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই ৷ আগামিকাল, বুধবার নয়াদিল্লিতে ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া’-তে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে ৷ 2024 সালে ছাত্র আন্দোলনের জেরে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে আসেন শেখ হাসিনা ৷ সেই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে ৷ ‘শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ শীর্ষক এই আয়োজনে মূল বক্তব্য রাখবেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন উপদেষ্টা ও শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরি নওফেদ-সহ আরও অনেকে । তবে ওই অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ শেখ হাসিনা ৷ তিনি ওই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি ভাষণ দিতে চলেছেন ৷
সেই নিয়েই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য়ে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে ৷ তাদের দাবি, এই ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজনের ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে ৷ এই আয়োজনে ভারতের কোনও ভূমিকা ছিল কি না, সেই বিষয়ে ভারতীয় সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ ৷ সোমবার ঢাকায় এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে জানান যে, ভারতের ভূখণ্ড থেকে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অব্যাহত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে । বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কবীর ভারতীয় হাইকমিশনারকে জানিয়েছেন যে এই ধরনের কার্যকলাপ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতির ক্ষতি করতে পারে ।তার পরই এই অনুষ্ঠান নিয়ে দায় ঝেড়ে ফেলল ভারত ৷ মঙ্গলবার বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘‘এই আলোচনা অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আয়োজন করা হচ্ছে । এর সঙ্গে সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই ৷ এমনকী, এই ফোরামে কোনও মতামত প্রকাশ করা হলে সরকার তার কোনোটিরই অনুমোদন বা সমর্থন করে না ।’’ উল্লেখ্য, ভারত ও বাংলাদেশ তাদের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার এবং ভারতে শেখ হাসিনার দীর্ঘ অবস্থানের কারণে সৃষ্ট টানাপোড়েন কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে । বাংলাদেশের দীর্ঘতম মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হাসিনা তাঁর 15 বছরের শাসনকালে ভারতের ধারাবাহিক বিভিন্ন সরকারের সঙ্গে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন । তা সত্ত্বেও, ঢাকা সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা ভারতে হাসিনার অবস্থানের বিষয়টি উপেক্ষা করে সম্পর্ককে পুনরায় স্বাভাবিক পথে ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী । বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ভালো করতে ভারতও আগ্রহ প্রকাশ করেছে ৷ 18তম ব্রিকস সম্মেলনের ‘আউটরিচ সেশন’-এ বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। রণধীর জয়সওয়াল জানান, বে অফ বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক)-এর বর্তমান সভাপতি হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ভারতের তরফে ।

