প্রয়াত এশিয়ান গেমসে স্বর্ণ পদকজয়ী শুটার যশপাল রানা ৷ বয়স হয়েছিল 49 বছর ৷ কোচ হিসেবে প্যারিস অলিম্পিকে মনু ভাকেরের ঐতিহাসিক জোড়া ব্রোঞ্জ পদক জয়ের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন কিংবদন্তি এই শুটার ৷ হৃদযন্ত্রের জটিলতা প্রাণ কাড়ল স্বর্ণজয়ীর ৷ ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (এনআরএআই)-এর সভাপতি কালকেশ নারায়ণ সিং দেও-এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লির একটি হাসপাতালে রানা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন যশপাল রানা । মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী রিনা রানা, মেয়ে দেবাংশী, ছেলে যুবরাজ, বাবা নারায়ণ সিং রানা এবং দুই ভাইবোন সুষমা সিং ও সুভাষ রানাকে রেখে গিয়েছেন । কিংবদন্তি শুটারের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ এক্স পোস্টে তিনি লেখেন, “শ্রী যশপাল রানা জি-র মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত । তাঁর প্রয়াণ ভারতীয় ক্রীড়াজগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি ৷” তিনি আরও লেখেন, “শুটিংয়ে অসাধারণ সাফল্যের মাধ্যমে দেশের জন্য অপরিসীম গৌরব বয়ে এনেছেন রানা এবং একইভাবে একজন পরামর্শদাতা হিসেবেও তাঁর অবদান ছিল প্রশংসনীয় ৷ তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে তরুণ ক্রীড়াবিদদের গড়ে তুলেছেন ও পথ দেখিয়েছেন ।” তাঁর কথায়, “শ্রেষ্ঠত্ব, শৃঙ্খলা এবং ক্রীড়া জগতের প্রতি তাঁর অবিচল নিষ্ঠা তাঁকে অপরিসীম প্রশংসা এনে দিয়েছে । এই শোকের মুহূর্তে আমার সমবেদনা তাঁর পরিবার, বন্ধু এবং সমগ্র ক্রীড়া জগতের প্রতি রইল । ওম শান্তি ৷” জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত আইএসএসএফ (ISSF) বিশ্বকাপ থেকে ভারতীয় দলের ফেরার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন । নয়াদিল্লিতে পৌঁছনোর পরপরই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে তাঁর হৃদযন্ত্রে স্টেন্ট বসানো হয় ৷ সূত্র অনুযায়ী, শুরুতে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেলেও পরবর্তীতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে । বৃহস্পতিবার রাতে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় ৷ স্পষ্টবাদী স্বভাব এবং খেলার প্রতি গভীর আবেগের কারণে ভারতীয় শুটিং মহলে স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত এই প্রাক্তন শুটার ছিলেন এক অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী ৷ মাত্র 12 বছর বয়সেই তিনি জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্বর্ণপদক জিতেছিলেন ।

1994 সালের কমনওয়েলথ গেমস এবং এশিয়ান গেমসে 25 মিটার ইভেন্টে স্বর্ণপদক জয়ের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর বড় সাফল্য আসে । বস্তুত, 1978 সালে রাজা রণধীর সিংয়ের সাফল্যের পর এশিয়ান গেমসে এটিই ছিল ভারতের প্রথম স্বর্ণপদক জয় । উল্লেখ্য, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার সাথে লড়াই করে রণধীর সিংও সম্প্রতি মৃত্যুবরণ করেছেন ।

শুটার হিসেবে রানার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তটি আসে 2006 সালের এশিয়ান গেমসে, যেখানে তিনি তিনটি স্বর্ণ ও একটি রৌপ্য পদক জয় করেন এবং সেই সঙ্গে তৎকালীন বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করার মতো দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন ।

একজন শীর্ষস্থানীয় শুটার হিসেবে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পর, রানা জুনিয়র জাতীয় দলের কোচ এবং হাই-পারফরম্যান্স প্রশিক্ষক হিসেবে ভারতীয় শুটিংয়ের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ।

মৃত্যুর আগে পর্যন্ত রানা ভারতীয় পিস্তল শুটারদের ‘হাই-পারফরম্যান্স কোচ’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন । একজন এলিট শুটার হিসেবে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পর, জুনিয়র জাতীয় দলের কোচ এবং হাই-পারফরম্যান্স প্রশিক্ষক হিসেবে তিনি ভারতীয় শুটিং জগতে আমূল পরিবর্তন এনেছিলেন ।

কোচ হিসেবে তাঁর সাফল্যের মধ্যে অন্যতম হল মনুকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং 2024 প্যারিস অলিম্পিকে তাঁর ঐতিহাসিক জোড়া ব্রোঞ্জ পদক জয়ে সহায়তা করা । 2012 সাল থেকে জুনিয়র পিস্তল কোচ হিসেবে তিনি সৌরভ চৌধুরী, অনীশ ভানওয়ালা এবং চিঙ্কি যাদবের মতো তরুণ প্রতিভাদের গড়ে তুলেছিলেন ৷