মহিলাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে 64 রানে জয় ভারতের। 170 রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান থামল 106 রানে। জয়ের জন্য রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের দুই ওপেনার মুনেব্বা আলি এবং গুল ফিরোজা আশা জাগিয়ে শুরু করেছিলেন। কিন্তু মুনেব্বা আলি একটা দিক ধরে রাখলেও বাকিরা ভারতীয় বোলিংয়ের সামনে কার্যত আত্মসমর্পণ করেন। আয়েশা জাফর (12), সায়রা জাবীন (2)-রা দ্রুত ফিরে যান। অধিনায়ক ফতেমা সানা খাতাই খুলতে পারেননি । নাতালিয়া পারভেজ ব্যক্তিগত 7 রানে ফিরে যান। আলিয়া রিয়াজের 18 রান ছাড়া বাকিরা কেউ দুই অঙ্কের রানে পৌঁছতে পারেননি। দীপ্তি শর্মা চার ওভারে 10 রানের বিনিময়ে পাঁচ উইকৈট নেন। শ্রী চারানির শিকার একুশ রানে তিন উইকেট। শেফালি ভার্মা একটি উইকেট নেন। বোলার ত্রয়ীর দাপটে 64 রানে পরাজিত হল পাকিস্তান। দলকে ফের টানলেন স্মৃতি। প্রয়োজনীয় সময়ে জ্বলে উঠল ব্যাট। মহিলাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অর্ধশতরান করলেন তিনি। নির্ভরতা দিল অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের ব্যাটও। শেষ দিকে ঝোড়ো ইনিংস বাংলার রিচা ঘোষের। ত্রয়ীর দাপটে প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে 6 উইকেট হারিয়ে 170 রান ভারতের।

টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন হরমনপ্রীত। শুরুটা ভালোই হয়েছিল। সাদিয়া ইকবালের প্রথম বলেই ছক্কা মারেন শেফালি। কিন্তু মহিলাদের টি-টোয়েন্টি ক্রমতালিকায় দু’নম্বরে থাকা সাদিয়ার পঞ্চম বলে আউট হন শেফালি (6)। সহজ উইকেট ছিল না এদিনের বাইশ গজ। কোনও বল আসছিল নিচু হয়ে ৷ কোনটা আবার বেশি লাফাচ্ছিল। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জেমাইমা রদ্রিগেজ়ের রেকর্ড ভালো। কিন্তু এই ম্যাচে পিচ বুঝে খেলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি।জোড়া ধাক্কার পর ইনিংস গড়তে জুটির প্রয়োজন ছিল। সেই কাজটাই করেন স্মৃতি ও হরমনপ্রীত। স্কোরবোর্ডকে সচল রেখে মাঝে মাঝে চার মারছিলেন স্মৃতি। এক বার ক্যাচ তুলেছিলেন । ধরতে পারেননি পাকিস্তানের ফিল্ডার। 10 ওভারে ভারতের রান ছিল 65।পিচের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পর রান তোলার গতি বাড়াতে শুরু করেন দুই ব্যাটার। বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন স্মৃতি। পাকিস্তানের ফিল্ডিংয়ের ফাঁক খুঁজে বড় শট মারছিলেন তিনি। সাদিয়ার এক ওভারে 19 রান নেন স্মৃতি-হরমন। 34 বলে অর্ধশতরান করেন স্মৃতি। তাঁর আরও একটি ক্যাচ পড়ে। তা কাজে লাগান ভারতীয় ব্যাটার। স্মৃতি-হরমনের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, বড় রান করবে ভারত। ঠিক তখনই পাকিস্তানকে খেলায় ফেরালেন অধিনায়ক ফাতিমা সানা। রামিন শামিমের বল লং অনের উপর দিয়ে মারার চেষ্টা করতে গিয়ে স্মৃতি ধরা পড়েন ফাতিমার হাতে। 44 বলে 68 রান করে আউট হন স্মৃতি। ভাঙে 91 রানের জুটি।

অধিনায়ক হরমনপ্রীতকে 36 রানের মাথায় আউট করেন ফাতিমা। আবার চাপে পড়ে যায় ভারত। সেখান থেকে দলকে টেনে তুললেন সেই রিচা ঘোষ। প্রথম থেকে চালিয়ে খেলতে থাকেন। 19তম ওভারে আসে 23 রান। শেষ ওভারে ফাতিমার বলে আউট হলেন রিচা। মাত্র 17 বলে 34 রান করলেন তিনি। বাংলার ব্যাটারের ব্যাটে লড়াকু স্কোর ভারতের ৷ শেষমেশ এল বড় জয় ৷