বিদেশ

মাছ ধরতে গিয়ে বাংলাদেশি নৌসেনার হাতে ধৃত, জেলে রহস্যমৃত্যু কাকদ্বীপের মৎস্যজীবীর

আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ নৌসেনার হাতে গ্রেফতারের চার মাস পর জেলবন্দি অবস্থায় মৃত্যু হল সুন্দরবনের এক মৎস্যজীবীর। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে শনিবার সন্ধ্যায় সেই খবর পৌঁছতেই শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা পরিবার ও পাড়া। মৃতের পরিবারের দাবি, এটি কোনও স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, পরিকল্পিত অত্যাচারের জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃত মৎস্যজীবীর নাম বাবুল দাস। হারউড পয়েন্ট কোস্টাল থানার রামকৃষ্ণ গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম গঙ্গাধরপুরের বাসিন্দা বাবুল জন্মগতভাবে মূক ও বধির ছিলেন। সংসারের দায় মাথায় নিয়ে ট্রলারে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতেই তাঁর জীবিকা। জুলাই মাসে ‘এফবি মঙ্গলচণ্ডী-৩৮’ ট্রলারে চেপে বঙ্গোপসাগরের দিকে রওনা দেন তিনি। সেই সময় ভুলবশত আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করায় বাবুল-সহ মোট ৩৪ জন ভারতীয় মৎস্যজীবীকে বাংলাদেশের নৌসেনা আটক করে। ১৫ জুলাই মংলা বন্দরের কাছে তাঁদের গ্রেফতার করা হয় এবং মংলা থানায় মামলা হয়। পরে বাগেরহাট আদালতের নির্দেশে সবাইকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়। সেই থেকে বাবুল বাংলাদেশের জেলেই বন্দি ছিলেন। শনিবার হঠাৎ পরিবারের কাছে বাংলাদেশ থেকে খবর আসে, জেলে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বাবুলের। খবর পাওয়ার পর থেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ে তাঁর পরিবার। গোটা এলাকাতেই নেমে আসে শোকের ছায়া। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, বাবুল একদমই সুস্থ ছিলেন, কোনও শারীরিক অসুখ ছিল না। তাঁর ভাই বাসুদেব দাস জানান, দাদা মূক-বধির হলেও শারীরিকভাবে সবল ছিল। ওর হঠাৎ মৃত্যুর খবর শুনে প্রথমেই সন্দেহ হয়। তিনি মনে করেন, জেলের ভিতরে অত্যাচার করে দাদাকে মেরে ফেলা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এটি নিছক দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার মৃত্যু নয় পরিকল্পিত খুন।