কলকাতা নাইট রাইডার্স: ১৫৫/৭ (রিঙ্কু- ৮৩, গ্রিন ৩৪, মহসিন- ২৩/৫)
লখনউ সুপার জায়েন্ট: ১৫৫/ ৮ (রিশভ ৪২, আয়ুষ ২৪, বরুণ-৩৩/২, বৈভব-২৪/২)
সুপার ওভারে ম্যাচ জিতে নিল কেকেআর।

এলএসজির বিরুদ্ধে বদলার ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস জয় পেল কেকেআর। প্রথমে রিঙ্কু সিংয়ের দুরন্ত ব্যাটিং, পরে এলএসজির লড়াকু ব্যাটিং। ২০ ওভারে খেলায় জেতা ম্যাচ কার্তিক ত্যাগির ভুলে কেকেআর হাতছাড়া করে। কিন্তু সুপার ওভারে দুরন্ত বোলিং করেন নারিন। ১ রান দিয়েই ২ উইকেট নিয়ে নেন। ২ রান সুপার ওভারে তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই বাউন্ডারি মেরে ম্যাচ শেষ করে দেন রিঙ্কু। টানা দ্বিতীয় জয়ে লিগ টেবিলে আট নম্বরে উঠে এল কেকেআর

শুরুতেই ধস নাইট ব্যাটিং অর্ডারে

লখনৌ সুপার জায়ান্টসের অধিনায়ক ঋষভ পন্থ (Rishabh Pant) টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন। আলোয় ভেজা মাঠে এই সিদ্ধান্ত শুরুতেই সঠিক প্রমাণ করেন মহসিন খান (Mohsin Khan)। নতুন বল হাতে তাঁর আগুনে স্পেলে KKR-এর ব্যাটিং লাইনআপ একেবারে ভেঙে পড়ে। নতুন বলের সুইং আর ধারাবাহিক ডট বল KKR ব্যাটারদের যেন শ্বাস নেওয়ার সুযোগই দেয়নি। প্রতিটি বলেই চাপ বাড়ছিল, আর তারই ফলস্বরূপ ইনিংস শুরুতেই ভেঙে পড়ার পথে এগোতে থাকে। পাওয়ার প্লে-তে LSG-র ডট বলের শতাংশ ৪৯.০%, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ। তুলনায় রাজস্থান রয়্যালস ৪৫% এবং গুজরাট টাইটান্স ৪৩% কিছুটা পিছিয়ে।

পাশাপাশি মহসিন খান এ দিন বিধ্বংসী মেজাজে ধরা দেন। তাঁর বোলিং ফিগার ছিল ৪ ওভারে ১ মেডেন, ২৩ রান দিয়ে ৫ উইকেট। তাঁর সুইং আর নিখুঁত লাইন-লেন্থে KKR ৭৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়ে। নির্দিষ্ট ব্যবধানে বারবার উইকেট পড়ায় ইনিংসও ধীর হয়ে যায়। কোনও পার্টনারশিপ গড়ার সুযোগই তৈরি হয়নি।

রিঙ্কু সিংয়ের দুর্দান্ত ইনিংস, একাই লড়ে দলকে টেনে তুললেন

ঠিক সেই ভাঙা ইনিংসের মাঝেই ব্যাট করতে নামেন রিঙ্কু সিং। ৩১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কলকাতা দলের পিঠ যখন দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছে, তখন ৬ নম্বরে নেমে এক অসাধারণ ইনিংস খেলেন রিঙ্কু। মাত্র ৫১ বলে অপরাজিত ৮৩ রান করেন তিনি। মারেন ৭টি চার এবং ৫টি ছক্কা— পুরো ইনিংস জুড়ে ছিল আত্মবিশ্বাস আর নিখুঁত টাইমিংয়ের ছাপ। শেষ ওভারেই চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে নেন মোট ২৬ রান।

তাঁর এই ইনিংস না থাকলে KKR ১২০ রানও পার করতে পারত না বলে মনে করা হচ্ছিল। শেষ দিকে সুনীল নারিন (Sunil Narine) ৬ বলে অপরাজিত ৪ করে কিছুটা সঙ্গ দেন এবং ইনিংস শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান। রিঙ্কুর ব্যাটিংই পুরো ম্যাচের চেহারা বদলে দেয়। রিঙ্কু ছাড়া ক্যামেরন গ্রিন (Cameron Green) করেন ২১ বলে ৩৪ রান। আর ১৫ বলে ১০ রান করেছিলেন নাইটদের অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে (Ajinkya Rahane)। বাকিরা কেউ দুই অঙ্কের ঘরেই পৌঁছতে পারেননি। ইনিংস শেষে লখনৌ সুপার জায়ান্টসের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৫৬ রান।