প্রায় 11 ঘণ্টা জেরা করার পর গ্রেফতার কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে গ্রেফতার করল ইডি ৷ ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনা পাপ্পু সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা। কিন্তু, তিনি তদন্তকারীদের সহযোগিতা করেননি বলে দাবি কেন্দ্রীয় সংস্থার গোয়েন্দাদের। এর পরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয় ৷ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনুকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন ইডির তদন্তকারীরা। প্রায় 11 ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদে সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে ইডি ৷ শুক্রবার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে আদালতে হাজির করানো হবে। বৃহস্পতিবার সকালে ইডি দফতরে তাঁর পৌঁছনোর খবর সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়ায় । দফতরের বাইরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয় । সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা এড়িয়ে শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ভিতরে প্রবেশ করেন বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের । ইডি সূত্রে খবর, সোনা পাপ্পুর মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এর আগে কালীঘাটের প্রাক্তন ওসি শান্তনুকে একাধিকবার তলব করেছিল ইডি। কিন্তু, তিনি বারবার হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ। একাধিকবার হাজিরা এড়ানোয় কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনুর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করেছিল ইডি। শুধু সোনা পাপ্পু নয়, একাধিক মামলায় কলকাতা ও দিল্লির দফতরে শান্তনুকে তলব করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে 9টার পর তাঁকে গ্রেফতার করে ইডি ৷
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক যোগসূত্র সংক্রান্ত তদন্তে শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা । সেই কারণেই তাঁকে বারবার তলব করা হয়েছিল । তবে তিনি কেন এতদিন হাজিরা দেননি, তা নিয়েও তদন্তকারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে খবর ।
এই মামলায় বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে ইডি ৷ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, সেই সোনা পাপ্পুর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল শান্তনুর। বালি পাচার মামলা রয়েছেও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সোনা পাপ্পুর মামলার সূত্র ধরে গত মাসেই শান্তনুর ফার্ন রোডের বাড়িতে দিনভর তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। এর পরের দিনই, শান্তনু এবং তাঁর দুই পুত্রকে তলব করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ৷ কিন্তু সকলেই হাজিরা এগিয়ে যান ৷ এর আগে এপ্রিলেও বালি পাচার মামলায় শান্তনুকে তলব করেছিল ইডি। সেবারও তাঁর পরিবর্তে তাঁর আইনজীবী হাজির হয়েছিলেন ইডির দফতরে ৷ কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে গ্রেফতারের পর তদন্ত পরবর্তীতে কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের ।

