কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তা ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস । তিনি ‘প্রভাবশালী’ অফিসারও বটে। কিন্তু বহুদিন ধরেই তিনি উধাও! ৪ মে তৃণমূল সরকার ফেলে দিয়েছে বিজেপি । এক সূত্র মারফত খবর, ৫ তারিখ সকাল সকালই ‘নিখোঁজ’ ডিসির নামে লুকআউট নোটিস জারি হয়েছে। যদিও এখনও সেই অর্ডারের কপি হাতে আসেনি। গত মাসের শেষের দিকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর একটি দল কলকাতা পুলিশের এক ডেপুটি কমিশনারের (ডিসি) বাড়িতে হানা দেয়। তারপর থেকেই ওই পুলিশকর্তার খোঁজ মিলছে না। পরের দিনই সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে তাঁকে তলব করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেখানে হাজিরা দেননি। এরপর থেকে তাঁর অন্তর্ধান ও তল্লাশি অভিযান ঘিরে বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।শান্তনুর বাড়িতে তল্লাশি চলাকালীন তাঁর উপস্থিতি নিয়ে ইডি এবং ওই পুলিশকর্তার পরিবারের মধ্যে পরস্পরবিরোধী দাবি উঠে এসেছে। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, অভিযানের সময়ে শান্তনু তাঁর বাড়িতে ছিলেন না। তিনি কোথায় আছেন, তা নিয়েও কোনও সদুত্তর মিলছে না। তল্লাশির সময়ে শান্তনুর পুত্র সায়ন্তন সিনহা বিশ্বাস দাবি করেছেন যে, তাঁর বাবা বাড়িতেই ছিলেন। শান্তনুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নে তিনি ইতিবাচক ইঙ্গিতও দেন।তল্লাশি চলার সময় প্রসেনজিৎ নাগ নামের এক আইনজীবী শান্তনুর বাড়ির সামনে পৌঁছে নিজেকে তাঁর আইনজীবী বলে পরিচয় দেন। তিনি বাড়িতে ঢুকতে চাইলেও কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁকে বাধা দেয়। ওই আইনজীবী জানিয়েছিলেন, ডিসি শান্তনুর সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ হয়নি।তল্লাশির সময় দুপুরের দিকে সায়ন্তনকে নিয়ে বালিগঞ্জের বাড়ি থেকে পার্ক স্ট্রিটের একটি ঠিকানায় পৌঁছোন ইডির আধিকারিকেরা। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এটি একটি সাধারণ অনুসন্ধান বা ‘নর্মাল এনকোয়ারি’। তাঁর বাবা ও তিনি বাড়িতেই ছিলেন এবং কিছু নথিপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। ইডির তরফে এই পরস্পরবিরোধী দাবি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি দেওয়া না হলেও, তল্লাশির সময়ে বা তার পরেও ওই পুলিশকর্তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। ফলে, তিনি ঠিক কোথায় আছেন তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্নচিহ্ন। শান্তনু অতীতে কালীঘাট থানার ওসি ছিলেন। ইডির একটি সূত্রে খবর, দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা সোনা পাপ্পু এবং বেহালার প্রোমোটার জয় কামদারের সঙ্গে কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি শান্তনুর ‘যোগসূত্র’ থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। সোনা পাপ্পু এখনও অধরা। তবে জয়কে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে ইডি।