মহাশিবরাত্রির দিনটিকে হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচনা করা হয় । মহাশিবরাত্রির মাহাত্ম্য সুদূরপ্রসারী। মহাশিব রাত্রি বা শিবরাত্রি হচ্ছে হিন্দু শৈব সম্প্রদায়ের নিকট একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান। এই মহাশিবরাত্রি ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হয়। মহাশিবরাত্রি হল হিন্দুধর্মের সর্বোচ্চ আরাধ্য পরম ব্রহ্ম, জগৎ পিতা, ত্রিকালদর্শী, কালেরও কাল, মহাকাল, দেবাদিদেব মহাদেব ‘শিবের মহা রাত্রি’। শিবরাত্রি হল আসলে শিব চতুর্দশী। শিবরাত্রিতে শিবের পুজো করলে সকল প্রকার সমস্যার সমাধান হয়। বিশেষ এই দিনে চার প্রহরের সময় দুধ, দই, গঙ্গা জল, ঘি, মধু, চন্দন, বিভূতি এবং বেলপাতা দিয়ে শিবলিঙ্গে অভিষেক করার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ভক্তি সহকারে মহাশিবরাত্রি পালন করলে অতীতের পাপ দূর হয় এবং মোক্ষ লাভ হয়। বলা হয় যে এই রাতে জাগ্রত থাকার ফলে আধ্যাত্মিক উন্নতি হয়, এই দিনে উপবাস করলে শরীর ও মন বিষমুক্ত হয় এবং এটি একটি গভীর ব্যক্তিগত এবং পবিত্র অভিজ্ঞতা। আসুন জেনে নিই মহাশিবরাত্রির চারটি প্রহরের শুভ সময়। 

🔵 এই বছর মহাশিবরাত্রি ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথি ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে বেলা ১১টা ০৮ মিনিট থেকে শুরু হবে এবং পরের দিন অর্থাৎ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে সকাল ৮ টা ৫৪ মিনিটে শেষ হবে।

🔵 নিশীথ কালঃ রাত ১২টা ০৯ মিনিট থেকে রাত ১২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ।
🔵 উপবাসের সময়ঃ ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ০৬টা ৪৮মিনিট থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি ০৮টা ৫৪মিনিট পর্যন্ত।

হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, প্রতি বছর ফাল্গুন কৃষ্ণ চতুর্দশী তিথিতে মহাশিবরাত্রি পালিত হয়। মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে, হাজার হাজার ভক্ত উপোস করে  ভোলেনাথের পুজো করেন। কথিত আছে এই দিনে জলাভিষেক, পঞ্চামৃত অভিষেক এবং রুদ্রাভিষেকে বিশেষ ফল দেয়।  

🔸 শিবপুজোর নিশীথ মুহূর্ত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ রাত ১২:০৯ টা থেকে মধ্যরাত ১২:৫৯ টা পর্যন্ত। নিশীথ সময়কাল ৫০ মিনিট। 

🟣 এই বছর মহাশিবরাত্রির ব্রহ্ম মুহুর্ত ভোর ০৫টা ০৯ মিনিট থেকে ভোর ০৫টা ৫৯মিনিট পর্যন্ত। তবে শাস্ত্র অনুসারে, ব্রহ্ম মুহুর্তের সময় ভোররাত ০৩টে ৩০মিনিট থেকে ভোর ০৫টে ৩০মিনিট পর্যন্ত

শিবলিঙ্গ অভিষেক করা মহাশিবরাত্রির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং ভগবান শিবকে দেওয়া বিভিন্ন নৈবেদ্যের বিভিন্ন অর্থ এবং গুরুত্ব রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, শিবলিঙ্গে নিবেদিত দুধ শান্তিপূর্ণ জীবনের জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনে বলে বিশ্বাস করা হয়। মধু জীবন এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমৃদ্ধি এবং মাধুর্য আকর্ষণ করে বলে মনে করা হয়। ভগবান শিবকে নিবেদিত দই শীতল প্রভাব প্রদান করে এবং সুস্বাস্থ্য প্রদান করে এবং বিল্বপত্র, বা বেলপত্র, ভগবান শিবের প্রিয় বলে বিশ্বাস করা হয়। এছাড়া গঙ্গাজল, বিভূতি এবং চন্দনও নিবেদন করে।

চার প্রহরে মহাদেবের অভিষেকের মন্ত্র

প্রথম প্রহরের মন্ত্র: হৃীং ঈশানায় নমঃ। মন্ত্র জপের সঙ্গে দুধ দিয়ে মহাদেবের অভিষেক করুন।

দ্বিতীয় প্রহরের মন্ত্র: হৃীং অঘোরায় নমঃ। মন্ত্র জপ করে দই দিয়ে মহেশ্বরের অভিষেক করবেন।

তৃতীয় প্রহরের মন্ত্র: হৃীং বামদেবায় নমঃ। মন্ত্র জপের মাধ্যমে ঘী দিয়ে অভিষেক করলে সুফল লাভ সম্ভব।

চতুর্থ প্রহরের মন্ত্র: হৃীং সাধ্যোজাতায় নমঃ। মন্ত্র জপের সঙ্গে মধু দিয়ে দেবাদিদেবের অভিষেক করা উচিত।

শিবরাত্রির উপবাস সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শুরু হয় এবং পরের দিন সকাল পর্যন্ত, চতুর্থ প্রহর শেষ হওয়ার পর পর্যন্ত চলতে থাকে। ২০২৫ সালে, মহাশিবরাত্রির দিনে উপবাসকারী শিবভক্তরা ২৬শে ফেব্রুয়ারি ব্রহ্ম মুহুর্তের সময় তাদের উপবাস শুরু করবেন এবং ২৭শে ফেব্রুয়ারি ব্রহ্ম মুহুর্তের পরে তা ভাঙবেন। মহাশিবরাত্রির রাতে ভক্তরা ধ্যান এবং ‘জাগরণ’-এ ব্যস্ত থাকায়, তাদের শরীর এবং মন শান্ত থাকবে বলে আশা করা হয়, তাদের কোনও খাবার প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং হজম করার চাপ থাকবে না। একজন উপাসক সারাদিন শান্ত এবং সংযত থাকবেন, রাগ এড়াবেন, কুকথা বললেন না এবং আধ্যাত্মিক কার্যকলাপে দিন কাটাবেন বলেও আশা করা হয়। ভক্তরা এদিন সূর্যোদয়ের আগে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে গঙ্গাজল এবং জল দিয়ে স্নান করেন এবং তারপর বাড়ির মন্দির পরিষ্কার করার আগে পরিষ্কার পোশাক পরেন। এই দিনে লোকেরা সাদা বা গেরুয়া রঙের পোশাক পরেন, বিশেষ করে পুজো করার সময়।

দেবাদিদেব মহাদেব ‘শিবের মহা রাত্রি অন্ধকার আর অজ্ঞতা দূর করার জন্য এই ব্রত পালিত হয়। অগণিত ভক্ত এইদিন শিবলিঙ্গে গঙ্গাজল, দুধ, বেলপাতা, ফুল দিয়ে পুজো করে থাকে। সব ব্রতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হল এই মহাশিবরাত্রি। ব্রতের আগের দিন ভক্তগণ নিরামিষ আহার করে। রাতে বিছানায় না শুয়ে মাটিতে শোয়া হয়। ব্রতের দিন তারা উপবাসী থাকে। তারপর রাত্রিবেলা চার প্রহরে শিবলিঙ্গকে দুধ, দই, ঘৃত, মধু ও গঙ্গাজল দিয়ে স্নান করানো হয়। তারপর বেলপাতা, নীলকন্ঠ ফুল, ধুতুরা, আকন্দ, অপরাজিতা প্রভৃতি ফুল দিয়ে পুজো করা হয়। ‘ॐ নমঃ শিবায়’ এই পঞ্চাক্ষর মহামন্ত্র জপ করা হয় । এছাড়া মহাদেবের গায়ত্রী মন্ত্র- ‘ তৎপুরুষায় বিদ্মহে মহাদেবায় ধীমহি তন্নো রুদ্রঃ প্রচোদয়াৎ‘, রুদ্র মন্ত্র- ‘ॐ নমো ভগবতে রুদ্রায়‘, এবং মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র- ‘ॐ ত্রয়ম্বকং যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম, উর্বারূকমিব বন্ধনান মৃত্যৌর্মুক্ষীয় আমামৃতাৎ‘- জপ করা হয়। সেদিন রাত্রি জাগরণ করা হয় ও শিবের ব্রতকথা, মন্ত্র আরাধণা করা হয়। ভারতবর্ষের বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গ তথা সমস্ত শিবমন্দিরে এই পুজো চলে, তান্ত্রিকেরাও এইদিন সিদ্ধিলাভের জন্য বিশেষ সাধনা করে। মহাশিবরাত্রি সাধারণত ইংরাজী মাসের ফেব্রুয়ারি বা মার্চ এ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। হিন্দু মহাপুরাণ তথা শিবমহাপুরাণ অনুসারে এইরাত্রেই শিব সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয়ের মহা তান্ডব নৃত্য করেছিলেন । আবার এইরাত্রেই শিব ও পার্বতীর বিবাহ হয়েছিল । এর নিগুঢ় অর্থ হল শিব ও শক্তি তথা পুরুষ ও আদিশক্তি বা পরাপ্রকৃতির মিলন। এই মহাশিবরাত্রিতে শিব তার প্রতীক লিঙ্গ তথা শিবলিঙ্গ রূপে প্রকাশিত হয়ে জীবের পাপনাশ ও মুক্তির পথ দিয়েছিলেন। যদিও বর্তমান কালে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শোনা যায়, শিবরাত্রি এমন এক ব্রত যেখানে শিবের মত বর পাওয়ার জন্য, স্বামীর মঙ্গলকামনার্থে সমগ্র হিন্দু নারীজাতি সারাদিন উপোস থেকে মহাদেবকে তুষ্ট করার চেষ্টা করেন। যদিও এটি নিতান্তই ভুল ধারণা। কেবলমাত্র নারী জাতি না, যে কেউই এই পুজো করতে পারেন এবং শুধুমাত্র স্বামীর নয়, সমগ্র জগতের মঙ্গলার্থে এই ব্রত করা যায়। স্কন্ধ, পদ্ম এবং লিঙ্গ পুরাণে এই শিবরাত্রির মাহাত্ম্য নিয়ে অনেক কথা বলা হয়েছে। শিবরাত্রির উৎস নিয়ে বিভিন্ন পৌরাণিক গল্প প্রচলিত আছে। শিবমহাপুরাণ অনুসারে, অতি প্রাচীনকালে বারাণসী তথা কাশীধামে এক নিষ্ঠুর ব্যাধ বাস করত। একদিন শিকারে বেরিয়ে তার খুব দেরী হওয়ার ফলে সে জঙ্গলে পথ হারিয়ে রাতে এক হীংস্র জন্তুর ভয়ে এক গাছের উপর আশ্রয় নেয় । কোনো শিকার না পেয়ে সে হতাশ হয়ে গাছ থেকে একটা করে পাতা ছিঁড়ে নিচে ফেলতে থাকে। সেই গাছটি ছিল বেলগাছ। আর সেই বেলগাছের নীচে একটি শিবলিঙ্গ ছিল। সেদিন ছিল শিবচতুর্দশী অর্থাৎ মহাশিব রাত্রি। আর ব্যাধও ছিল উপবাসী। তার ফেলা বেলপাতাগুলো শিবলিঙ্গের মাথায় পড়ে এর ফলে তার শিবচতুর্দশী ব্রতের ফল লাভ হয় তার অজান্তেই। পরদিন ব্যাধ বাড়ি ফিরে এলে তার খাবার সে এক অতিথিকে দিয়ে দেয়। এতে তার ব্রতের পারণ ফল লাভ হয়।এর কিছুদিন পরে সেই ব্যাধ মারা গেলে যমদূতরা তাকে নিতে আসে। কিন্তু শিবচতুর্দশী ব্রতের ফল লাভ হেতু শিবদূতরা এসে যুদ্ধ করে যমদূতদের হারিয়ে ব্যাধকে নিয়ে যায়। যমরাজ তখন স্বীকার করেন যে শিবচতুর্দশী ব্রত পালন করে তার উপর যমের কোনো অধিকার থাকেনা। সে মুক্তিলাভ করে। এইভাবে মর্ত্যলোকে শিবচতুর্দশী ব্রতের প্রচার ঘটে। আবার একটি উপাখ্যান অনুসারে মহাদেব শিব যখন তার ত্রিনয়ন বোজান, তখন সারা পৃথিবীতে অন্ধকার নেমে আসে আর সেই অন্ধকার দূর করতে ভক্তদের শিবরাত্রি পালন করতে হয় শিবের আরাধনা করে। কথিত আছে, একদা ব্রহ্মা ও বিষ্ণুর মধ্যে বিবাদ বাঁধে কে জগৎস্রষ্টা, কে সর্বোত্তম তাই নিয়ে। দুই আদিপুরুষের মধ্যে শুরু হয় ক্ষমতার লড়াই। বিষ্ণু ও ব্রহ্মা পরস্পরকে যথাক্রমে মহাশক্তিশালী মহেশ্বর অস্ত্র ও পাশুপত অস্ত্র নিক্ষেপ করেন। দুই মহা অস্ত্রের সংঘর্ষে সমগ্র সৃষ্টি লয়প্রাপ্ত হওয়ার সময় আসন্ন দেখে দেবতারা শঙ্কিত। সেই মুহূর্তে সমুদ্রের জলরাশি ভেদ করে এক জ্বলন্ত জ্যোতির্ময় স্তম্ভের আবির্ভাব হয়। দুই মহা অস্ত্রের সংঘর্ষে উৎপন্ন বিধ্বংসী অগ্নিশিখা সেই স্তম্ভে সমাহিত হয় এবং সমগ্র সৃষ্টি রক্ষা পায়। কথিত আছে এই স্তম্ভ স্বর্ণ রজত বা পাষাণ নির্মিত নয়, তার না আছে আদি না আছে অন্ত। উদ্ভব হল মহাতেজী জ্যোতির্লিঙ্গের। এর আদি ও অন্ত সন্ধানের জন্য বিষ্ণু বরাহ রূপ নিয়ে পাতালপ্রবেশ করলেন এবং ব্রহ্মা হংসরূপ নিয়ে আকাশপথে গমন করেন। বিষ্ণু ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসেন। কিন্তু ব্রহ্মা দেবত্ব লাভের আশায় মিথ্যার আশ্রয় নেন এবং শিবজটা থেকে পতিত কেতকী ফুলকে তাঁর হয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দানে রাজী করিয়ে সঙ্গে নিয়ে ফিরে আসেন। জ্যোতি/প্রকাশ র্লিঙ্গের অন্ত দর্শন না করেও মিথ্যা বলায় মহাদেব ক্রুদ্ধ হন এবং জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে বিভুতিভূষণ, শূল ও দণ্ডপাণি, পিনাকপাণি, সায়ক ও চক্রধারী গঙ্গাধর ওঙ্কারস্বরূপ ভগবান মহেশ্বর আত্মপ্রকাশ করেন।  এরপর শিব, কাল ভৈরবের রূপ নেন। তিনি গিয়ে ব্রহ্মার ৫ মুখের থেকে একটিকে কেটে দেন। ওই মুখটিই ছিল ব্রহ্মার অহংকারের মুখ। সেই অহংকারের মুখটি ছিন্ন হতেই, ব্রহ্মা নিজের ভুল স্বীকার করেন।  ক্রুদ্ধ ভগবান ব্রহ্মাদেবকে অভিশাপ দেন যে ব্রহ্মাদেব কখনো পূজিত হবেন না, এবং তার নিজস্ব কোনো মন্দির থাকবে না, তবে সমস্ত শুভকর্ম তাঁকে ছাড়া অসম্পূর্ণ থাকবে। মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ায় মহাদেব তাঁর পুজোয় কেতকীফুলের নিবেদন নিষিদ্ধ করেন। পরে দেবতাগণ মহাদেবের এই ভয়ঙ্কর রূপে ভীত হয়ে তাঁর স্তবপাঠ করে তার আদি অন্তহীন লিঙ্গমূর্তিকে সকল সৃষ্টির উৎস মেনে নিলে তিনি শান্ত হন এবং তাঁদের মনস্কামনা পূরণ করেন এবং সেই পুণ্য তিথিকে শিবরাত্রি হিসাবে পালন করার নির্দেশ দেন। আর ব্যাধের বিল্বপত্রাচরণ দিয়ে শিবরাত্রির প্রচলনের গল্প তো আমাদের সকলেরই জানা। তবে শিবরাত্রির উৎস সম্পর্কে সবচেয়ে প্রচলিত যে দুটি পৌরাণিক গল্প তাদের মধ্যে একটি হল সমুদ্র মন্থনে ওঠা বিষ শিব নিজের কণ্ঠে রেখে মানব্জাতিকে সেই বিষের সংস্পর্শ থেকে রক্ষা করে। শিবরাত্রি হল মহাদেবের বিষপান করে মানবজাতিকে রক্ষা করার কথা মনে রেখে তাঁর প্রতি মানুষের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন। আর অন্যটি হল ব্রহ্মা বিষ্ণুর মধ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াই তে শিবের জ্যোতির্লিঙ্গ হিসেবে আবির্ভাব ও সেই লড়াই এ মধ্যস্থতা করাকে স্মরণ করে শিবরাত্রি পালন করা হয়। মহাশিব রাত্রি অনুষ্ঠানে ভারতবর্ষের বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গ তথা সোমনাথ, মল্লিকার্জুন, মহাকালেশ্বর, ওঁকারেশ্বর, কেদারনাথ, ভীমশঙ্কর, বিশ্বেশ্বর, ত্র্যয়ম্বকেশ্বর, বৈদ্যনাথ, নাগেশ্বর, রামেশ্বর ও ঘুশ্মেশ্বর এ বহু মানুষের সমাগম হয় ও সবার হাতে এই জ্যোতির্লিঙ্গের পূজা ও পবিত্র স্পর্শলাভ ঘটে। আলেকজান্ডার কানিংহ্যাম ১৮৮৪ সালে তার গ্রন্থে বর্ণনা করে গেছেন কিভাবে মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহোতে এই শিবরাত্রির দিন ঘটা করে শিব-পার্বতীর বিবাহ উৎসব পালন করা হয়। তামিলনাড়ুর থিল্লাই নটরাজ মন্দিরে এই দিন নাট্যাঞ্জলি নৃত্য উৎসব পালন হয়। নাচের মাধ্যমে এইদিন শিবের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। কাশ্মীরে এইদিনটিকে ‘হেরাথ’ বলে। তান্ত্রিক সূত্রে এই দিনটিকে ভৈরব ও ভৈরবী দের আরাধনার মাধ্যমে ‘ভৈরব উৎসব’ পালন করার কথা বলা হয়েছে। আশা করি, মহাশিবরাত্রির উৎস, মাহাত্ম্য ও ফলাফল সম্পর্কে কিছুটা আলোকপাত করতে পারলাম।