বাড়িতেই রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন করলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ আর সেখান থেকেই ফের একবার বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন তিনি ৷ একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, রবীন্দ্র জয়ন্তী পালনের জন্য তিনটি জায়গা চাওয়া হয়েছিল তাদের তরফে ৷ যদিও একটি জায়গারও অনুমতি দেওয়া হয়নি ৷ এদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, রাজনাথ সিংদের উপস্থিতিতে ব্রিগেডে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী ৷ সেই মঞ্চেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতীতে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী ৷ পরে জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়িতেও যান শুভেন্দু অধিকারী ৷ অন্যদিকে, এদিন বিকালে কালীঘাটে নিজের বাসভবনে রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, “তিনটি স্থানে রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপনের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হয়। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিই যে, এখানেই—আমার বাসভবনেই— আমি এই উদযাপন করব। ওরা সমস্ত ডেকোরেটরকে নির্দেশ দিয়েছিল যেন তারা কোনও প্রকার সাহায্য না করে ৷” এখানেই শেষ নয়, 25 বৈশাকের দিনই বিজেপির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন মমতা ৷ তিনি বলেন, “আমি সমস্ত সমমনা রাজনৈতিক দলগুলির কাছে আবেদন জানাচ্ছি, আপনারা বিজেপির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।” মমতা আরও বলেন, “চারদিকে সন্ত্রাসের বজ্রাঘাত চলছে। আমি সমস্ত রাজনৈতিক দল, ছাত্র-যুব সংগঠন, এনজিও-কে বলব জোট বাঁধুন। আমরা বিজেপির বিরুদ্ধে একটা মঞ্চ গড়তে চাই।” মমতা বলেন, “বাম, অতিবাম, যে কোনও জাতীয় দল, যে যেখানে আছেন, আসুন আমরা জোট বাঁধি। কেউ চাইলে আমার সঙ্গে কথা বলতে পারেন। 4টে থেকে 6টা পর্যন্ত আমি অফিসেই থাকব। আমাদের প্রথম শত্রু বিজেপি।” মমতার কথায়, “চারিদিকে সন্ত্রাসের বজ্রপাত চলছে। ভয় না পেয়ে বাংলার যত বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্র, যুব সংগঠন রয়েছে তাদের তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বঙ্গে জোট বাঁধার আবেদন জানাচ্ছি। লেফটিস্টদের নিয়েও আমার কোনও ইগো নেই। লেফটিস্ট, আলট্রা লেফটিস্ট সবাইকে নিয়ে চলতে চাই। আসুন আমরা জোট বাঁধি।” দিল্লির পাশাপাশি বাংলাতেও বিরোধী ঐক্য মঞ্চ তৈরির আহ্বান জানান তিনি। মমতা এদিন বলেন, “রবীন্দ্রনাথের গভীর জীবনদর্শন আমাদের প্রাত্যহিক যাত্রাপথে এক চিরন্তন পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন—বিভাজন সত্য নয়; ঐক্যই হলো পরম সত্য।” তৃণমূল নেত্রী আরও বলেন যে, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উগ্র জাতীয়তাবাদের উন্মাদনার ঊর্ধ্বে উঠেছিলেন এবং সমগ্র বিশ্বের কাছে সর্বজনীন ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন।” তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, কবির চিরন্তন আদর্শ, তাঁর সুদূরপ্রসারী চিন্তাধারা, জাগ্রত বিবেক এবং সৃজনশীল প্রতিভা “সমগ্র বিশ্বের মানুষের মনে আরও উজ্জ্বলভাবে উদ্ভাসিত হবে”।