কলকাতা হাইকোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইনজীবীরা যে পোশাক পরেন, সেই পোশাক পরেই বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে পৌঁছলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। ভোট পরবর্তী হিংসায় তৃণমূলের একের পরে এক পার্টি অফিসে হামলা হয়েছে, ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, এই অভিযোগকে সামনে রেখে মামলা হয়। শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এই মামলা করেন। তারই সওয়াল করতে এজলাসে মমতা। এ দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আদালতে আসেন চন্দ্রিমা ভট্টচার্য, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। গত ১২ মে কলকাতা হাইকোর্টে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলা দায়ের করে তৃণমূল। দলের পক্ষে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় জনস্বার্থ মামলা করেন। দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। তখনই ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিল, আজ, বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি হবে। মামলাকারীর বক্তব্য ছিল, ভোটের ফল প্রকাশের পরে বহু তৃণমূল নেতা-কর্মী ঘরছাড়া। শুধুমাত্র তৃণমূল করার জন্য বহু কর্মী, সমর্থকের বাড়িতে হামলা হয়েছে।
হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে এদিন মমতা সওয়াল করেন ৷ নির্বাচনের পর তৃণমূল কার্যালয় ও কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে । বিভিন্ন জেলা থেকে সেই অভিযোগ ওঠে । সেই ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে । সেই মামলাতেই হাইকোর্টে মমতা, সেটি দায়ের করেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে তথা 2026 সালে উত্তরপাড়া বিধানসভার এবারের তৃণমূলের পরাজিত প্রার্থী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় । তাঁর দাবি ছিল, একাধিক জায়গায় ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের অভিযোগ আসছে । সেই মামলায় সওয়াল করতেই আদালতে পৌঁছন মমতা । কল্যাণও উপস্থিত রয়েছেন আদালতে । প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে এদিনি মমতা সওয়াল করেন ৷ নির্বাচনের পর তৃণমূল কার্যালয় ও কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে সেই অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। যে মামলায় হাইকোর্টে মমতা, সেটি দায়ের করেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে তথা 2026 সালে উত্তরপাড়া বিধানসভার প্রার্থী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি ছিল, একাধিক জায়গায় ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের অভিযোগ আসছে। সেই মামলায় সওয়াল করতেই আদালতে পৌঁছন মমতা। কল্যাণও উপস্থিত হন আদালতে।
সওয়াল-জবাব
19 নম্বর মামলায় বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য : এর আগে 2021 সালে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সুস্মিতা সাহা দত্ত নামে বিজেপির এক আইনজীবীর দায়ের করা মামলায় যে নির্দেশ দিয়েছিল বিশেষ বেঞ্চ । সেই একই নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি ।
শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় : 2021- এর থেকে বেশি হিংসার ঘটনা ঘটেছে এবার । আমরা মামলায় সেই সমস্ত তথ্য দিয়েছি। হুলিগানিজম, হুমকি, ভাঙচুর, মারধরের অভিযোগ ।
প্রধান বিচারপতি : এর আগে কমিটি গঠন করা হয়েছিল ? লার্জার বেঞ্চে কমিটি কোন রিপোর্ট দিয়েছিল ।
বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য : রাজ্যজুড়ে হিংসার ঘটনা ঘটেছে । ভাঙচুর করা হয়েছে ।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে নিয়ে সওয়াল করেন: খেজুরিতে 60টি দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে । ডোমজুড়ে ব্লক তৃণমূল সভাপতির উপর হামলা করা হয়েছে । 10 জন তৃণমূল কর্মী নিহত । গোঘাটে সমস্ত পার্টি অফিস ভেঙে দেওয়া হয়েছে । বহু তৃণমূল কর্মী ঘরছাড়া । কেউ বাড়িতে থাকতে পারছেন না । আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে । মহিলারা আক্রান্ত । বুলডোজার এনে পার্টি অফিস, দোকানঘর ভাঙা হয়েছে । বুলডোজার এভাবে ব্যবহার করা যায় না । একতরফাভাবে বসতবাড়ি পর্যন্ত ভাঙা হয়েছে । এসএএস হগ মার্কেটে বুলডোজার দিয়ে বহু পুরনো পার্টি অফিস ভাঙা হয়েছে । অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হোক । এফআইআর দায়ের করে তদন্ত করা হোক । অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারি করা হোক বুলডোজার চালানোর বিরুদ্ধে ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আমি 1985 সালে বার কাউন্সিলের মেম্বার হিসাবে নিজের নাম নথিভুক্ত করেছি । আমি সওয়াল করতে চাই । তপশিলি জাতির পরিবার আক্রান্ত । নব বিবাহিতদের পরিবারকে ঘরছাড়া করা হয়েছে । হিন্দু, মুসলিম, এসসি, এসটি পরিবার ঘরছাড়া । প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে লোকজন । সাধারণ জীবনযাপন বিপর্যস্ত । 10 জন এখনও পর্যন্ত খুন হয়েছেন ভোট পরবর্তী হিংসায়। এমনকী আমার বাড়িতে পর্যন্ত হুমকি দেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ির সামনে হল্লা চলছে। নিরাপত্তার অভাব রয়েছে সর্বত্র। বাড়ি, অফিস লুঠ করা হচ্ছে। আমাদের কাছে ছবিও আছে। এটা বুলডোজারের স্টেট নয়, এটা সাংস্কৃতিক রাজ্য। রক্ষা করুন।
অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল, অশোক চক্রবর্তী: এই মামলা করার আগে রিসার্চ করতে হয় । বাস্তব ঘটনার নমুনা দিতে হয় মামলায় ।
পুলিশের পক্ষে ধীরজ ত্রিবেদী: যে সমস্ত অভিযোগ করা হয়েছে তার স্বপক্ষে প্রমাণ কোথায় ? যে অভিযোগ করা হয়েছে তা পুলিশকে খতিয়ে দেখতে হবে । 2000 কর্মী আক্রান্ত বলা হয়েছে । তা খতিয়ে দেখতে হবে পুলিশকে । তার জন্য সময় প্রয়োজন । পুলিশ বসে নেই। পোস্ট পোল ভায়োলেন্স যেগুলো বলা হচ্ছে সেগুলো আদৌ ভোট পরবর্তী হিংসা কি না, তা পুলিশকে দেখতে হবে। হগ মার্কেটের ঘটনায় পুলিশ 9 জনকে গ্রেফতার করেছে। আমরা এফআইআর দায়ের করেছি ৷
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়: আমরা সমস্ত তথ্য দিয়েছি। পুলিশ কি ঘুমাচ্ছে ? কারা ঘর ছাড়া, কারা আক্রান্ত । পুলিশকে অপরাধ আটকাতে হবে। তারা কি ক্রাইম হয়ে যাওয়ার পর পদক্ষেপ করবে? যাতে এমন ঘটনা না-ঘটে। সম্পূর্ণ আইন শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে রাজ্যে।

