কালীঘাটে পরাজিত প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বৈঠকে তৃণমূল নেতানেত্রীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন তিনি৷ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘‘যাঁরা বেরিয়ে যাওয়ার তাঁরা বেরিয়ে চলে যান৷ আমি কাউকে আটকাব না। যাঁরা পড়ে থাকবেন, তাঁরা নিরেট সোনা।’’ নতুন করে দলকে গড়ার বার্তা তৃণমূলনেত্রীর৷ এদিনের বৈঠকে উপস্থিত নেতানেত্রীদের উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘‘পার্টি অফিস রঙ করুন। ভেঙে যাওয়া অংশ সারিয়ে তুলুন। আমি নিজে পার্টি অফিস রঙ করব। অনেকেই এখন রঙ বদলাচ্ছে। তাঁরা চলে যান।’’ বৈঠকে প্রতি জেলাওয়ারি নেতাদের খোঁজ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাব্বিশের নির্বাচনের ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের৷ একুশে যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল পেয়েছিল ২১৫টি আসন এবং বিজেপি ৭৭টি, ছাব্বিশে এসে প্রায় উল্টে গিয়েছে সেই ফলাফল৷ ছাব্বিশে ২৯৪ আসনের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছে ২০৭ এবং তৃণমূল এসে ঠেকেছে ৮০-তে৷ নির্বাচনে এই বিপর্যয়ের কার্য কারণ অনুসন্ধানে শুক্রবার কালীঘাটে একটি বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তৃণমূল সূত্রের খবর, মমতা এদিনের বৈঠকে নির্দেশ দেন, ‘‘সাত দিনের মধ্যে সবাই এলাকা ভিত্তিক রিপোর্ট দিন। কেন হেরেছি সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট পাঠান। ব্লক, টাউন, অঞ্চলে মিটিং মিছিল ছোট করে শুরু করুন। ঘরছাড়াদের তালিকা জমা দিন কালীঘাটে।’’ মমতা জানান, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আইনি সহায়তার কাজে সাহায্য করবে। আইন সংক্রান্ত যোগাযোগ ও পরামর্শ করবেন। এরপরেই, মমতার স্পষ্ট নির্দেশ, ‘‘বেফাঁস মন্তব্য করা বন্ধ করুন। যা যা বলছেন সব নজরে আছে। এতদিন কেন দলকে বলেননি? এবার কিছু বলার হলে দলকে জানান।’’ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে বৃহস্পতিবারও কালীঘাটের কার্যালয়ে সাংসদদের নিয়ে বৈঠক করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এদিন তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক-ও ব্রায়েনরা৷