আর দু-দিন, তারপরেই ফলপ্রকাশ। ভোট মিটলেই ভোটের ফলের ইঙ্গিত পাওয়ার জন্য সবাই চোখ রাখেন বুথফেরত সমীক্ষায়। কিন্তু এই বুথফেরত সমীক্ষার ফল অনেক সময়ই মেলে না। গতকাল রাতের বুথফেরত সমীক্ষার পরে বৃহস্পতিবার বাংলার জনগণের কাছে বক্তব্য রাখলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। মমতার কথায়, ‘রাতের বেলা নিজেরা থাকুন। প্রয়োজনে আমি পাহারা দেব। সবাইকে নিয়ম করে পাহারা দিতে হবে। কাউন্টিং সেন্টার থেকে গণনা টেবিলে যাওয়ার সময় মেশিন বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা ওরা করেছে। রেজাল্ট বেরনোর দিন, আমি যতক্ষণ না সাংবাদিক সম্মেলন করব, ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ কাউন্টিং সেন্টার ছাড়বেন না  টেবিলে যে গণনা হয়, সেটা কম্পিউটারে তোলার সময়ে বদলে যেতে পারে। আমাদের ফল ওদের দিয়ে দিতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে, কর্মীদের কাছে কৃতজ্ঞ। যারা সব অত্যাচার সহ্য করে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর অত্যাচার সহ্য করে, মোদি-শাহের অত্যাচার সহ্য করে, ১৯টা রাজ্যের বিজেপি নেতাদের অর্থ, শক্তি, বন্দুকের অত্যাচার সহ্য করে ভোট দিয়েছেন তাঁদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমরা ২০২৬-এ ২২৬ পার করব। ওরা মেয়েদের মেরেছে, বাচ্চাদের মেরেছে। কর্মীদের এমনকি সাংবাদিকদেরও মেরেছে। একতরফা মেরে গিয়েছে। অনেককে ইচ্ছা করে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভাটপাড়া, নোয়াপাড়ায় সারারত রেড হয়েছে। আমি দুই রাত ঘুমাইনি। দরকার হলে আমিও সারারাত পাহারা দিতে রাজি। দিনের বেলায় কর্মীদের রাখুন, রাতে প্রার্থীরা নিজেরা থাকুন, পাহারা দিন। আমি যদি পারি, আপনারাও পারবেন। নজর রাখতে হবে যাতে কোনওরকম অবহেলা না হয়। দ্বিতীয় দফার ভোটে একাধিক কেন্দ্রে উঠেছে অশান্তির অভিযোগ৷ এ প্রসঙ্গে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, যেখানে যেখানে অশান্তির ঘটনা ঘটেছে সেখানে সেখানে পদক্ষেপ করা হবে। গতকালই সিইও জানিয়েছিলেন প্রয়োজন হলে রিপোল হবে৷ বৃহস্পতিবার তিনি জানালেন, রি-পোল নিয়ে স্ক্রুটিনি চলছে। রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও থাকবেন। ফিল্ড লেভেল অফিসাররাও থাকবেন। তারা দেখছেন৷ মোট ২৯৪ আসনে হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দরকার ১৪৮টি আসন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অষ্টদশ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিআইএম, সিপিআই, আইএসএফ-এর মতো দলগুলি।