বাংলায় শেষ হয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। ফলাফল ৪মে। এর মাঝেই ভিডিয়ো বার্তায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তন নিয়ে ঠিক কতটা নিশ্চিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)সেই কথাই জানিয়ে দিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেলে সমাজ মাধ্যমে একটি ভিডিয়ো বার্তায় তিনি বলেন, ”টিভিতে যে এক্সিট পোল দেখানো হয়েছে সেটা বিজেপির পার্টি অফিস থেকে বুধবার পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা মা-মাটি-মানুষের সরকার গঠন করছি। জয় বাংলা!” তিনি বলেন, “বিজেপি টাকা দিয়ে প্রেস এবং গোদি মিডিয়াকে দিয়ে এই সমীক্ষা করিয়েছে যাতে কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়া যায় এবং শেয়ার বাজারে ধস নামা আটকানো যায়। ২০১৬ এবং ২০২১ সালেও ওরা একই কাজ করেছিল। মানুষ বিপুলভাবে তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে এবং তৃণমূল ২২৬-র বেশি আসনে জয়লাভ করবে।” বলেন, “সেন্ট্রাল ফোর্স এবং এখানকার কিছু পুলিশ যৌথভাবে সাধারণ মানুষ ও মহিলাদের ওপর অত্যাচার করেছে। উদয়নারায়ণপুরে আমাদের এক কর্মী মারা গিয়েছেন, ভবানীপুরে বাচ্চাদের মারা হয়েছে। অর্থের ভাণ্ডার ও বন্দুকের আস্ফালন দেখিয়ে বাংলার মানুষকে জব্দ করা যাবে না। বাংলার মানুষ বহিরাগতদের সমর্থন করে না।”
দলীয় কর্মীদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আজ থেকেই সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে কাউন্টিং সেন্টার বা গণনাকেন্দ্রে পাহারা দিতে হবে। দরকার হলে আমি নিজেও আমার এলাকায় পাহারা দিতে নামব।” রাজ্যের ২৯৪টি কেন্দ্রের প্রার্থীদের নির্দেশ দেন, ”কাউন্টিং সেন্টারে প্রার্থীদের নিজেদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। দিনের বেলায় কর্মীরা পাহারা দিলেও রাতে প্রার্থীদের নিজেদের থাকতে হবে। রাত জেগে পাহারা দিন, সকালে অন্য টিমের হাতে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে তবেই ঘুমাতে যাবেন। ওরা (বিজেপি) পরিকল্পনা করেছে যে যখন স্ট্রং রুম থেকে ইভিএম মেশিন গণনাকক্ষে নিয়ে যাওয়া হবে, তখন মেশিন বদলে দেওয়া হতে পারে। তাই এই সময়ে বিন্দুমাত্র অবহেলা করা চলবে না। অনেক সময় টেবিলে গণনার পর কম্পিউটারে তথ্য আপলোড করার সময় কারচুপি করে তৃণমূলের ভোট বিজেপির নামে চালিয়ে দেওয়া হয়। নেত্রীর নির্দেশ, “যতক্ষণ না আমি নিজে প্রেস কনফারেন্স করে ফল ঘোষণা করছি, ততক্ষণ কেউ গণনাকক্ষ ছাড়বেন না। যদি খাবার খেতে বা শৌচাগারে যেতে হয়, তবে নিজের জায়গায় এমন কাউকে বসিয়ে যাবেন যাকে কেউ টাকা দিয়ে কিনতে পারবে না। কাজ শেষ করে দুই মিনিটের মধ্যে ফিরে আসতে হবে।” কর্মীদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “বাংলা মাকে বাঁচানোর জন্য এবং মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য এইটুকু কষ্ট আপনাদের করতেই হবে।” তবে উত্তেজনার আবহে সবাইকে শান্ত ও সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। জয় নিয়ে ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল নেত্রী বলেন, “দিদির ওপর ভরসা রাখুন, মানুষের ওপর ভরসা রাখুন। নিশ্চিন্তে থাকুন, আমরাই মা-মাটি-মানুষের সরকার গঠন করছি।”
এদিন বেহালায় ভোট-পরবর্তী হিংসা ও আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নিশ্চিন্তে, শান্তভাবে ও সংযতভাবে থাকুন। ওরা হামলা করলেও আপনারা এক্ষুনি পালটা হামলা করতে যাবেন না। আমি জানি কাল রাতেও বেহালাতে অনেক মারধর করা হয়েছে। ভাঙড়ে আমার কর্মীদের রক্তাক্ত করা হয়েছে। এর জবাব আগামী দিনে ওদের দিতেই হবে, আমরা ব্যবস্থা করব। কিন্তু আপনাদের আইন হাতে তুলে নেওয়ার দরকার নেই। পুলিশের কেউ কেউ বিজেপির কথা শুনে কাজ করছেন। প্রশাসনকে বলব, অনেক খেলা আপনারা দেখিয়েছেন বিজেপির কথায়। দয়া করে গণনার সময় আমাদের ছেলেমেয়েদের বা কোনও রাজনৈতিক দলের গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। অনেক পিটিয়েছেন, আর নয়।” তিনি মনে করিয়ে দেন, বাংলা বহিরাগতদের নয়, বরং ‘মা-মাটি-মানুষ’-র দখলেই থাকবে।”

