শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার নিরাপদ করতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আর সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এ বার সরকারকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে Meta। মঙ্গলবার একটি বিবৃতিতে ভারত সরকারের তরফে জানানো হয়েছে যে, শিশু নিগ্রহের কোনও ঘটনার কথা জানা গেলেই তা দ্রুত সরকারের তদন্তকারী সংস্থাকে জানাবে Meta। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতে যে কোনও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম চালানোর জন্য শিশুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আর সেই উদ্যোগকে সমর্থন করে এগিয়ে এসেছে Meta। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, Meta পরিচালিত কোনও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে শিশু নির্যাতন, অত্যাচার বা নিগ্রহের কোনও কন্টেন্ট দেখা গেলে Meta দ্রুত তা দেশের তদন্তকারী সংস্থাকে জানাবে। সোশ্যাল মিডিয়াকে শিশুদের জন্য নিরাপদ করে তোলার উদ্যোগে এটিই ‘প্রথম পদক্ষেপ’ বলে অভিমত সরকারের। তবে, এখানেই থেমে থাকবে না সরকার, বিবৃতিতে এমনটাই জানানো হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, Meta ছাড়াও, দেশে পরিচালিত অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মেও যাতে শিশুদের নিগ্রহ বা অত্যাচারের কন্টেন্ট না ছড়িয়ে পড়ে, সে বিষয়ে নজরদারি চালানো হবে। যে সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এই নিয়ম মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সরকার। সাম্প্রতিক একটি বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞ মহলের। চলতি বছরে Meta পরিচালিত ইনস্টাগ্রামে একটি বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়। সেই বিজ্ঞাপনে শিশু নিগ্রহকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই বিজ্ঞাপনে Child Sexual Exploitive and Abusive Material (CSEAM) দেখানো হয় বলেও অভিযোগ। মেটা জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে বেশ কিছু বিজ্ঞাপনের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়া হয়। একাধিক অ্যাকাউন্টও সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়। এমনকী, শিশু নির্যাতন বা নিগ্রহ সংক্রান্ত কোনও কন্টেন্ট প্রকাশ্যে এলে তা National Centre for Missing and Exploited Children-কে জানানো হয় বলেও জানায় Meta। তবে, এ বার আটঘাট বেঁধেই শিশু নিগ্রহ কন্টেন্টের মোকাবিলা করতে চাইছে সরকার। সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ইঙ্গিত করছে সে দিকেই।