banganews.net

শনিবার সকালে নয়াদিল্লিতে দিল্লি আইআইটি’র 57তম সমাবর্তন উৎসবে তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশে এই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ সম্প্রতি নিট-ইউজির প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে যন্তর মন্তরে আন্দোলনে কার্যত মাথা নত করতে হয় মোদি সরকারকে ৷ এরপর এই প্রথম প্রকাশ্যে মঞ্চ থেকে যুবদের বার্তা দিলেন মোদি । এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী ও অন্যান্যরা ৷ তরুণ প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যখনই পরিবর্তন আসে, তখনই তার সঙ্গে চ্যালেঞ্জও আসে ৷ আর সঙ্গে নিত্যনতুন অবকাশও তৈরি হয় ৷” প্রধানমন্ত্রীর মতে, “বিশ্ব বদলাবে ৷ তার সঙ্গে প্রযুক্তি বদলাবে, ইন্ডাস্ট্রি বদলাবে এবং পেশাও বদলাবে ৷ কিন্তু এই সবকিছুর মধ্যে আমার কথা মনে রাখবেন, যে শিখবে সেই জয়ী হবে ৷” জেন Z-দের উৎসাহ দিতে তিনি আরও বলেন, “যাঁর মধ্যে নতুন চ্যালেঞ্জের সমাধান খোঁজার সাহস থাকবে, চ্যালেঞ্জগুলি তাঁর কাছে সুযোগে পরিণত হবে ৷ আপনারা আইআইটি দিল্লি থেকে এটাই শিখেছেন ৷” তিনি বলেন, “আজ খুব দ্রুত পৃথিবীর পরিবর্তন হচ্ছে ৷ কেউ বলতে পারে না এখন থেকে 20-30 বছর পর বিশ্ব কেমন হবে ৷ আপনি আপনার কৌতূহলকে জাগিয়ে রাখুন ৷ আপনার শেখার ইচ্ছাটাকে বাঁচিয়ে রাখুন ৷ যিনি শিখতে থাকবেন, তিনিই জয়ী হবেন ৷” তরুণ-তরুণীদের প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ, “যখন কোনও চ্যালেঞ্জকে খুব বড় মনে হবে, তখন ঘাবড়ে যাবেন না ৷ সমস্যাগুলোকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিন ৷ আপনারা নিজেরা দেখেছেন, কীভাবে ল্যাবরেটরিতে একটা সমস্যার সমাধান খুঁজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এমনকী দিন পেরিয়ে যেত ৷ কিন্তু তার পর আপনি সমস্যাগুলির সমাধানও করেছেন ৷ আর নতুন কিছু পেয়েছেন ৷ কিন্তু মুশকিলের স্বভাব এটাই যে তারা একা আসে না, সঙ্গে সুযোগও নিয়ে আসে ৷ সবাইকে সচেতন থাকতে হবে ৷” এই প্রসঙ্গে তাঁর সংযোজন, “আপনাকে প্রশ্ন চিনে নিতে হবে ৷ যথাযথ জবাব দেওয়াই সাফল্য নয় ৷ কারণ তিনি ওই প্রশ্নটাকে বুঝতে পেরেছিলেন ৷ কারণ বিশ্ব ওই প্রশ্নটাকে প্রশ্ন হিসাবে মানেনি ৷ তাঁরা সেই সব সমস্যার সমাধান খুঁজেছেন, বাকি লোকজন সেই সমস্যাগুলির সঙ্গে সমঝোতা করেছিলেন ৷ তাই জীবনে কৌতূহল জিইয়ে রাখুন ৷ নিজের শেখার প্রবণতাকে জাগিয়ে রাখুন ৷ চেতনা সজাগ রাখুন ৷” প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “আপনারা জানেন, প্রত্যেক প্রজন্মকে কিছু না কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় ৷ এবং প্রত্যেক প্রজন্মের একটা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বও থাকে ৷ আমাদের দেশ দাসত্বের সেই সময়ও দেখেছে ৷ যখন ওই প্রজন্মের সামনে একটাই লক্ষ্য ছিল, ভারতের স্বাধীনতা ৷ তার জন্য তাঁরা আত্মবলিদান করেছেন ৷ দীর্ঘ সংগ্রাম করেছেন ৷ আজ আমরা যে স্বতন্ত্র ভারতে নিঃশ্বাস নিচ্ছি, সেটা সেই প্রজন্মের ত্যাগ ও বলিদান আছে ৷ আজকের এই দৌড়ে আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জগুলি ভিন্ন ৷ তাই আমাদের দায়িত্বও আলাদা ৷ আপনারা আপনাদের জীবনে আগামী 30-35 বছরে যা করবেন, তা আমাদের বিকশিত ভারতের যাত্রাকে প্রভাবিত করবে ৷”

তিনি জানান, আজ ভারত অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং শিল্প ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হওয়ার জন্য কাজ করে চলেছে ৷ প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিকশিত ভারত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনার ভূমিকা অনেক বড় ৷ দেশের যুব সম্প্রদায় যত শক্তিশালী হবে, দেশও ততই শক্তিশালী হবে ৷ এই ভাবনা থেকেই আমরা দেশে এমন অনেক সেক্টর খুলে দিয়েছি, যেখানে একসময় প্রবেশের পথই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ৷ সরকারের আধুনিক নীতির জন্য দেশে আজ যুবদের জন্য নতুন নতুন সেক্টর তৈরি হচ্ছে ৷” স্পেস সেক্টরে তরুণ প্রজন্মের জন্য সংস্কারের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ তিনি বলেন, “এই সেক্টরের সব কাজ সরকারই করত ৷ আজ ওই সেক্টর হাজার হাজার যুবদের জন্য সুযোগের আকাশে পরিণত হয়েছে ৷ আজ আমাদের তরুণরা লঞ্চ ভেহিকল তৈরি করছে ৷ রকেট লঞ্চ করছেন ৷ আর যে সাফল্য অর্জন করছেন, যা বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশই করতে পেরেছে ৷” সেমিকন্ডাক্টরের উদাহরণ দেন তিনি, “অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিল, ভারত এসব করতে পারবে না ৷ কিন্তু আজ দেশের প্রথম সেমিকন্ডাক্টররে উৎপাদন শুরু হয়ে গিয়েছে ৷ চিপ থেকে শিপ- সবকিছু এখানে আপনারই হাতে তৈরি হবে ৷” ড্রোন সেক্টরের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন ৷ ভারতের তরুণ-তরুণীরা নতুন নতুন ড্রোন তৈরি করছে ৷ ড্রোন চাষের কাজে লাগছে, ড্রোন দিয়ে ওযুধ পাঠানো হচ্ছে ৷ দেশের সুরক্ষার কাজ করছে বলে জানান তিনি ৷ স্টার্টআপ রেভোলিউশনের প্রসঙ্গ তুলে মোদি বলেন, “ইউনিকর্ন, ডিজিটাল পেমেন্টস, ফিনটেক রেভোলিউশন, দেশের লক্ষ লক্ষ যুব সম্প্রদায়কে কিছু করে দেখানোর সুযোগ দিয়েছে ৷” তিনি জানান, এমন অনেক সেক্টর আছে, সেখানে ভারত সবে যাত্রা শুরু করেছে ৷ তিনি বলেন, “আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ডেটা সেন্টার্স, ক্রিটিক্যাল মিনারেলস, ডিপ সি এক্সপ্লোরেশন, ব্যাটারি, পাওয়ার শর্টেজ, শক্তিসম্পদের সুরক্ষা, ইলেক্ট্রিক মবিলিটি, কনটেন্ট কম্পিউটিং, এমন অনেক ক্ষেত্রে আপনাদের ট্যালেন্ট, আপনাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা, আপনার নেতৃত্বের অপেক্ষায় রয়েছে ৷ আর আমিও অপেক্ষা করছি ৷” দেশে গবেষণার উপরও জোর দিয়েছেন তিনি ৷ দেশের সেমিকন্ডাক্টর সেক্টর পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার এই বিষয়ে নানাবিধ পদক্ষেপ করছে ৷ অনেকে প্রশ্ন করেছে ভারত সেমিকন্ডাক্টর নিয়ে কিছু করতে পারবে কি না ৷ তাঁর বক্তব্য, “এখন দেশের প্রথম সেমিকন্ডাক্টর ইউনিটে উৎপাদনের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে ৷ আমার দৃঢ় বিশ্বাস চিপ থেকে জাহাজ, সবকিছুই এখানে আপনাদের হাতে তৈরি করা যাবে ৷” সব শেষে প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, “আপনার দৌড় আপনার সঙ্গে ৷ প্রত্যেকটা দিন আরও ভালো করার চেষ্টা করবেন ৷” শরীর ও মনের খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী ৷ সবাইকে অভিনন্দন জানান ৷ এদিন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিন হাজারেরও বেশি স্নাতক স্তরের পড়ুয়াদের হাতে তাঁদের ডিগ্রির নথি তুলে দেওয়া হয় ৷ এছাড়া 587 জন পিএইচডি গবেষকও ছিলেন ৷