বর্ষার ইনিংস এবার আরও জোরালো হতে চলেছে । উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যেই আরও শক্তি সঞ্চয় করে ‘সুস্পষ্ট নিম্নচাপ’ -এ পরিণত হতে পারে । তার জেরে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্ব, মধ্য, উত্তর-পূর্ব এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে ২২ জুলাই পর্যন্ত দফায় দফায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) । একই সঙ্গে ১৯ জুলাই থেকে উত্তর-পশ্চিম ভারতে নতুন পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রবেশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস । আইএমডি-র বুলেটিন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন উত্তর ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে নিম্নচাপটি অবস্থান করছিল । এর সঙ্গে যুক্ত ঘূর্ণাবর্তটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭.৬ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত । আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি আরও শক্তিশালী হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে । সেই পথেই উত্তর ওড়িশা ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ অতিক্রম করবে আবহাওয়ার এই ব্যবস্থা । নিম্নচাপ শক্তিশালী হওয়ায় উত্তর বঙ্গোপসাগর, ওড়িশা ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে ঘণ্টায় 40 থেকে 50 কিলোমিটার দমকা হাওয়া, ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে । আরব সাগরের বিস্তীর্ণ অংশেও 65 কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে । তাই আগামী কয়েক দিন গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে না-যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর ।

সবচেয়ে বেশি প্রভাব বাংলা ও পূর্ব ভারতে

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই দফায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা পূর্ব ভারতে । বৃহস্পতিবার গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড এবং বিহারের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে । ওড়িশার কিছু জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে । পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের পার্বত্য অঞ্চল এবং উপ-হিমালয় সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমেও আগামী কয়েক দিনে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে । কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গেও নিম্নচাপের প্রভাবে দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমডি । কোথাও কোথাও স্বল্প সময়ে প্রবল বর্ষণের ফলে জল জমা এবং স্থানীয় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না ।

মৌসুমি অক্ষরেখা ও পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জোড়া প্রভাব

শুধু নিম্নচাপ নয়, মৌসুমি অক্ষরেখাও বর্তমানে অমৃতসর, দেরাদুন, পাটনা, বাঁকুড়া হয়ে বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত । এর পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ, বিহার, অসম এবং গুজরাতে একাধিক ঊর্ধ্ববায়ু ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে । 19 জুলাই থেকে একটি নতুন পশ্চিমী ঝঞ্ঝা উত্তর-পশ্চিম ভারতে ঢুকবে । এই তিনটি ঝঞ্ঝার সম্মিলিত প্রভাবে দেশের বিস্তীর্ণ অংশে বর্ষার দাপট আরও বাড়বে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদেরা ।