বামুনিয়া বিস্ফোরণ কাণ্ডে গত বৃহস্পতিবারই রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার জীবনতলার বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল এনআইএ৷ তারপরে তাঁর ছেলেকে নিয়ে এলাকার বিভিন্ন জায়গায় শওকতের খোঁজে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা৷ দিনের শেষে জল্পনা তৈরি হয় বাংলাদেশে পালিয়েছেন শওকত৷ এবার তাই শওকত মোল্লার খোঁজ পেতে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করল এনআইএ। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাজ্যের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। ধৃতের নাম সাইনুর মোল্লা। এই নিয়ে মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল তিন।
এদিকে, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের খোঁজে জারি হয়েছে তল্লাশি অভিযান, আর সম্ভাব্য পালানোর পথ রুখতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-কেও সতর্ক করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর। তদন্তকারীদের দাবি, শওকত মোল্লার ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোনই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে আত্মগোপন করেছেন বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করছে NIA। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন, গত পরশু রাত পর্যন্ত এলাকায় শওকত মোল্লাকে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু তারপর থেকেই তাঁর আর কোনও খোঁজ মেলেনি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় 13 ঘণ্টা ধরে এলাকাজুড়ে তল্লাশি চালায় এনআইএ-র একাধিক দল। বাড়ি, অফিস এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিভিন্ন ঠিকানায় খোঁজ চালানো হলেও শওকতের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে উঠে এসেছে একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে ইতিমধ্যেই বেশ ক’য়েকটি ক্যামেরার ভিডিয়ো রেকর্ডিং পৌঁছেছে। সেই ফুটেজ খতিয়ে দেখে শওকতের গতিবিধি ও সম্ভাব্য পালানোর রুট চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের ধারণা, আত্মগোপনের আগে তিনি কোথায় গিয়েছিলেন এবং কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তার সূত্র মিলতে পারে এই ফুটেজ থেকেই। এনআইএ সূত্রে খবর, শওকত মোল্লা যাতে বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে না-পারেন, সেই আশঙ্কা থেকেই বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তাঁর ছবি, পরিচয়পত্রের তথ্য, মোবাইল নম্বর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত ও আহতদের বহনে ব্যবহৃত স্করপিও গাড়ির চালক ছিলেন সাইনুর মোল্লা। তদন্তকারীদের দাবি, বিস্ফোরণের পর আহত ও মৃত ব্যক্তিদের প্রথমে একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই পুরো ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ধৃতের। এর মধ্যে ছিল প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার বাড়ি ও তাঁর সম্ভাব্য ক’য়েকটি গোপন আস্তানাও। তদন্তকারীদের দাবি, শওকত মোল্লা এই মামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত ও ষড়যন্ত্রকারী। বর্তমানে তিনি পলাতক ৷

