ভোটপ্রচারে অসমে গিয়ে চা-বাগান ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রে মোদি ৷ কথা বললেন চা-বাগানের কর্মীদের সঙ্গে ৷ নিজের হাতে চা-পাতাও তুললেন ৷ 9 এপ্রিল একদফায় ভোট হবে অসমের 126টি আসনে ৷ তার আগে বুধবার নির্বাচনী প্রচারে আসেন তিনি ৷ জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার আগে ডিব্রুগড়ের মনোহারি চা-বাগানে যান প্রধানমন্ত্রী ৷ নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে পরে এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টও করেন তিনি ৷ চা-বাগানের শ্রমিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে মোদি লেখেন, “চা-বাগানের কাজের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি পরিরারের জন্য আমি গর্বিত ৷ তাদের প্রত্যেকের পরিশ্রম অসমকে গর্বিত করেছে ৷” অন্য একটি পোস্টে চা-বাগানের মহিলা শ্রমিকদের সঙ্গে তোলা তাঁর একটি সেলফিও পোস্ট করেন মোদি ৷ সঙ্গে লেখেন, “চা পাতা তুলতে তুলতে তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে অনেক কিছু জানলাম ৷” পরে বিশ্বনাথ চারালি জেলার জনসভা থেকে গত এক দশকে অসমের উন্নয়ন সম্পর্কে নিজের বক্তব্য পেশ করেন প্রধানমন্ত্রী ৷ তিনি জানান, একটা সময় এ রাজ্যের নাগরিকদের জীবনে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি ৷ এবার তাঁরাই এক উন্নত রাজ্য দেখে অবাক হয়েছেন ৷ ভাষণের একটি অংশে তাঁর মন্তব্য, অসমের রাস্তাগুলি এখন এতটাই উন্নত হয়েছে যে এখানে যুদ্ধজাহাজ পর্যন্ত নামতে পারবে ৷ প্রধানমন্ত্রী বলেন, “10 বছর আগে পর্যন্ত কেউ অসমে এলে এখানকার পরিস্থিতি দেখে অবাক হয়ে যেতেন ৷ একটা রাজ্য এতটা পিছিয়ে কী করে থাকতে পারে তা বিশ্বাস করাই কঠিন ছিল । কিন্তু অসমের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন যে কোনও মানুষকে খুশি করে দিতে পারে ৷ মাত্র কিছুদিন আগে দুনিয়া দেখেছে, অসমে রাস্তায় যুদ্ধবিমানও নামতে পারে ৷” এরপর তিনি জানান, অসমের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা রাজ্যের বিজেপি সরকারের লক্ষ্য ৷ পাশাপাশি ভূমিক্ষয় রোখাও সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ ৷ আগামিদিনে অসমের উন্নয়ন তরান্বিত করতে রাজ্য সরকার 18 হাজার কোটি টাকা খরচ করবে বলেও জানান তিনি ৷ এদিনের জনসভা থেকে ‘লাখপতি দিদি’ থেকে শুরু নারী সুরক্ষা নিয়েও মন্তব্য করেন মোদি ৷ তিনি জানান, ইতিমধ্যেই অসমে অনেক মহিলাকে ‘লাখপতি দিদি’ প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে ৷ আগামিদিনে এই সংখ্যাটিকে 40 লক্ষে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকার ৷ একইসঙ্গে অসম এখন নারীদের জন্য আগের থেকে অনেক বেশি নিরাপদ হয়েছে বলে জানান তিনি ৷

