রায়গঞ্জের সভা থেকে তৃণমূলকেও নিশানা করেন রাহুল। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে সুযোগ কে দিচ্ছে? তৃণমূল কংগ্রস সুযোগ দিচ্ছে। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গকে টাকা দেয় না। পশ্চিমবঙ্গকে ২ লক্ষ কোটি দেয়নি বিজেপি। ১০০ দিনের কাজের টাকা কেটে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাজেটে এ রাজ্যের জন্য কোনও প্রকল্প দেয়নি। তার পরে এসআইআর-এর মাধ্যমে গণতন্ত্রের উপর আক্রমণ করছে। কিন্তু তৃণমূলও নিজের কাজে ব্যস্ত। তারাও এ রাজ্যের জন্য কাজ করছে না।” শিল্প ও কারখানা নিয়ে মোদীকে তোপ দাগার সময়ে মমতাকেও খোঁচা দেন রাহুল। কংগ্রেস নেতা রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বলেন, “আপনারা বলবেন, আমাদের এখানে তো ছোট-মাঝারি কারখানা মমতাজিই বন্ধ করিয়ে দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে আপনাদের ‘ডবল ক্ষতি’ হবে। পশ্চিমবঙ্গে মমতাজি আপনাদের শিল্পকে শেষ করে দিয়েছেন। দেশে নরেন্দ্র মোদী শিল্পকে শেষ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। ” বিজেপিকে নিশানা করে রাহুল বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে ভোট চুরির চেষ্টা করে। মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানায় চুরি করেছে। এমনি এমনি ওরা ভোট জিতে যায় না। কংগ্রেস এবং বিরোধীদের ভোট চুরি করে, ভোট কেটে ওরা জেতে।”রাহুল বলেন, “নরেন্দ্র মোদী দুর্নীতিগ্রস্ত হলে তৃণমূল কংগ্রেসও দুর্নীতির দৌড়ে পিছিয়ে নেই। সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে ১৭ লক্ষ বিনিয়োগকারীর ১৯০০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। রোজ়ভ্যালি চিট ফান্ড কেলেঙ্কারিতে ৩১ লক্ষ বিনিয়োগকারীর ৬৬০০ কোটি টাকা এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি। কয়লাপাচার দুর্নীতি, বেআইনি খাদান চলে। ‘গুন্ডা ট্যাক্স’ তোলা হয় এখানে। এতে পশ্চিমবঙ্গবাসীর কোনও লাভ হয় না। এতে শুধু তৃণমূলের সিন্ডিকেট পয়সা পেতে থাকে।” রাহুল এও বলেন, “২০২১ সালে তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ৫ লক্ষ লোকের রোজগারের ব্যবস্থা করবে। কত জনের রোজগারের ব্যবস্থা হয়েছে? কত সংস্থা বন্ধ হয়েছে? কত কারখানা বন্ধ হয়েছে? এখন ৮৪ লক্ষ যুবক বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ৫ লক্ষ যুবকের রোজগারের ব্যবস্থা করবেন। আর ৮৪ লক্ষ যুবক বেকার ভাতার আবেদন করছে।”