প্রথমে ভোট চুরি তারপর সরকার চুরি আর এখন রাজনৈতিক দল চুরি করেছে বিজেপি । তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ করার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে এভাবেই বিজেপিকে আক্রমণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি । শুক্রবার সকালে সোশাল মিডিয়ায় কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি লেখেন, প্রথমে শিমসেনা, তারপর এনসিপি এবং এখন তৃণমূল কংগ্রেস-প্রতিবার একই কায়দায় বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন এক হয়ে রাজনৈতিক দলকে ভাঙার কাজ করছে । পোস্টের একটি অংশে রাহুল লেখেন, ” যেখানে বিজেপি একটা রাজনৈতিক দলকে চুরি করতে পারে সেখানে তারা যে কোটি কোটি ভারতীয় ভোট চুরি করবে তাতে অবাক হওয়ার কী আছে ! প্রথমে ভোট চুরি তারপর সরকার চুরি আর এখন রাজনৈতিক দল চুরি করে ভারতের গণতন্ত্রকে হত্যা করছে বিজেপি । ” কমিশনের প্রতি তোপ দেগে রাহুল বলেন, ” জনাদেশকে রক্ষা করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব । সেটা না করে তারা সেই সমস্ত শক্তিকে সাহায্য করছে যাঁরা জনাদেশকে ধ্বংস করে ক্ষমতায় থাকতে চায় । এই লড়াই শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একার নয় । এটা কোনও একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের লড়াইও নয় । এটা আদতে দেশের সেই সব মানুষের লড়াই যারা মুক্ত ও অবাধ নির্বাচনী ব্যবস্থা চান । ” রাহুলের আগে হাত শিবিরের নেতা তথা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কেসি ভেণুগোপাল সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ করে কমিশন প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর জন্মদিনে উপহার দিয়েছে ।” তিনি লেখন, “বিজেপি অসাংবিধানিকভাবে হাইজ্যাক করার পর নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ করল । এভাবে বেশি রাতে প্রধানমন্ত্রীকে জন্মদিনের উপহার দিলেন মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার । যাঁরা একসময় মমতার নেতৃত্বে তৃণমূলের হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়়াই করেছিল আজ তাঁদেরই বলা হচ্ছে অসাংবিধানিক কায়দায় তাঁর বিরোধিতা করতে । কমিশন আবারও প্রমাণ করে দিল তারা বিজেপির হাতের পুতুল। কমিশনকে ব্যবহার করে বিজেপি বারবার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে চলেছে ।” তিনি আরও লেখেন, “এর আগে শিবসেনা এবং এনসিপির সঙ্গেও কমিশন একই কাজ করেছিল । বিষয়টি পরিস্কার, যারা যারা বিজেপির বিরোধিতা করবে তাদের বিরুদ্ধেই নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগানো হবে । আমরা কমিশনের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছি । দাবি করছি মমতার হাতেই দলের প্রতীক ব্যবহার ফিরিয়ে দেওয়া হোক ।” সমাজবাদী পার্টির প্রধান তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী অখিলেশ যাদব লেখেন, “কমিশন যদি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার কাজ করে তাহলে তাদের সম্মান ও মর্যাদা বাড়বে । আমাদের আর কিছু বলার নেই । একটাই প্রশ্ন- আমরা কমিশনে যে হলফনামা দিয়েছিলাম সেগুলি কি গ্রহণ করা হয়েছে ? “