রাজ্য সরকারের সংশোধিত প্রফেশনাল ট্যাক্স বা পেশা করের নতুন তালিকা প্রকাশ্যে এল। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দফতর (রাজস্ব) গত 18 অগস্ট প্রকাশিত গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে করের কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য রদবদলের ঘোষণা করেছে। বেতনভোগী কর্মচারী, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন স্বাধীন পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আয়ের নিরিখে নতুন করের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজ্যপালের নির্দেশে অর্থ দফতরের সচিব সঞ্জয় বনশলের জারি করা এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চাকরিজীবী এবং বিশেষ কিছু বাণিজ্যিক পেশার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে আগামী 1 অক্টোবর থেকে। তবে ব্যবসায়ী ও সাধারণ স্বাধীন পেশার করদাতাদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তিত কাঠামো চালু হবে আগামী আর্থিক বছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ 2027 সালের 1 এপ্রিল থেকে। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বেতনভুক্ত কর্মচারীদের মাসিক আয়ের উপর ভিত্তি করে করের স্তর ভাগ করা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, মাসিক বেতন বা পারিশ্রমিক 20 হাজার টাকা পর্যন্ত হলে কোনও পেশা কর দিতে হবে না। আগে এই পরিমাণটি ছিল 10 হাজার টাকা। মাসিক আয় 20 হাজার টাকার বেশি থেকে 30 হাজার টাকা পর্যন্ত হলে মাসে 100 টাকা করে কর কাটা হবে। 30 হাজার টাকার বেশি থেকে 50 হাজার টাকা পর্যন্ত হলে করের অঙ্ক হবে মাসে 140 টাকা। একইভাবে, 50 হাজার টাকার বেশি থেকে 1 লক্ষ টাকা পর্যন্ত বেতনের ক্ষেত্রে মাসে 170 টাকা এবং মাসিক আয় 1 লক্ষ টাকা ছাড়ালে প্রতি মাসে 208 টাকা পেশাকর জমা দিতে হবে। স্বাধীন পেশায় যুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বার্ষিক আয়ের নিরিখে করের হার নির্ধারিত হয়েছে। বছরে আড়াই লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে সম্পূর্ণ কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। বার্ষিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার বেশি কিন্তু পাঁচ লক্ষ টাকার মধ্যে হলে বছরে 1 হাজার টাকা, পাঁচ লক্ষ থেকে 10 লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে বছরে 2 হাজার টাকা এবং 10 লক্ষ টাকার বেশি আয়ে বছরে 2 হাজার 500 টাকা কর দিতে হবে। অন্যদিকে, পণ্য বা পরিষেবা ব্যবসার সঙ্গে যুক্তদের ক্ষেত্রে বার্ষিক লেনদেন বা টার্নওভার 10 লক্ষ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত রাখা হয়েছে। তবে বার্ষিক টার্নওভার 10 থেকে 20 লক্ষ টাকা হলে বছরে 1 হাজার টাকা, 20 থেকে 40 লক্ষ টাকা হলে দেড় হাজার টাকা এবং 40 লক্ষ টাকার বেশি লেনদেনে বছরে 2 হাজার 500 টাকা পেশাকর ধার্য করা হয়েছে। এছাড়াও বিজ্ঞপ্তির ‘পার্ট-সি’ তালিকায় একাধিক নির্দিষ্ট পেশা ও ব্যবসাকে চিহ্নিত করে বছরে এককালীন 2 হাজার 500 টাকা কর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এদের আয় বা টার্নওভার যাই হোক না কেন, নির্দিষ্ট এই কর দিতে হবে। শপিং মল ও মাল্টিপ্লেক্সের দোকান, এসি রেস্তোরাঁ, বিউটি পার্লার, জিম, নার্সিংহোম, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পেট্রোল পাম্প, বিভিন্ন কোম্পানির ডিরেক্টর এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি এই তালিকায় নতুন সংযোজন আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র। ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ, ওটিটি প্ল্যাটফর্মের প্রযোজক, অনলাইন এডুকেটর ও ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সির মালিকদেরও এই নির্দিষ্ট কর দিতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনও ব্যক্তি যদি একাধিক করের স্তরের আওতায় পড়েন, তবে তাঁর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ করের হারটিই প্রযোজ্য হবে। সীমান্তে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা বিএসএফ জওয়ানরা এই করের আওতার বাইরে থাকবেন। নতুন এই কর কাঠামোর বিষয়ে কারও কোনও আপত্তি বা পরামর্শ থাকলে তা বিজ্ঞপ্তি জারির 14 দিনের মধ্যে সরকারকে জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

