অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সায়নী ঘোষের নামে যৌথ সম্পত্তির খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন তৃণমূল নেত্রী তথা সাংসদ সায়নী ঘোষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কলকাতার একটি নির্দিষ্ট ঠিকানার সম্পত্তির সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, তাঁর নামে এই ধরনের ভুয়ো খবর বা অপপ্রচার ছড়ানো হলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন নেত্রী। এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে তিনি তাঁর ভোটার এবং সাধারণ মানুষকে এই ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং মেসেজিং অ্যাপগুলিতে বেশ কিছু মেসেজ ফরওয়ার্ড হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভাইরাল মেসেজে দাবি করা হয়, কলকাতার 19 ডি, সেভেন ট্যাঙ্কস রোড, কলকাতা 700030— এই ঠিকানায় একটি সম্পত্তি রয়েছে, যার যৌথ মালিক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সায়নী ঘোষ। সেখানে যোগাযোগের জন্য কোনও মোবাইল নম্বরও দেওয়া ছিল না। এই খবরটি নজরে আসতেই তীব্র প্রতিবাদ জানান সায়নী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ওই সম্পত্তিতে নাম থাকা ব্যক্তি আর তিনি একেবারেই এক নন। রাজনীতি থেকে তিনি রাতারাতি কোনও বিপুল পরিমাণ আর্থিক লাভ করেননি বলেও দাবি করেছেন। সাধারণ এক প্রেক্ষাপট থেকে উঠে আসা এই নেত্রী জানান, মানুষের আশীর্বাদকেই তিনি নিজের জীবনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন। বিনা প্রমাণে তাঁকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টার বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন সায়নী। সমালোচকদের কটাক্ষের কড়া জবাব দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর যাবতীয় সম্পত্তির খতিয়ান সাম্প্রতিক নির্বাচনী হলফনামায় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা রয়েছে। সাধারণ মানুষ বা তাঁর ভোটাররা চাইলে নির্বাচন কমিশনের সেই সরকারি নথি যে কোনও সময় পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কড়া ভাষায় তিনি লিখেছেন, বিনা প্রমাণে তাঁকে বদনাম করার এই চেষ্টা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই ধরনের অপপ্রচারের কাছে তিনি এক ইঞ্চিও মাথা নোয়াবেন না এবং ভুয়ো খবর ছড়ানোর বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শাসকদলের নেতা-মন্ত্রীদের সম্পত্তির হিসেব নিয়ে যখন বিরোধী শিবির বারবার সরব হচ্ছে, ঠিক সেই আবহেই এই ধরনের একটি মেসেজ নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছিল। তবে সেই জল্পনা যাতে ডালপালা মেলতে না পারে, তার জন্যই দ্রুত আসরে নামেন সায়নী। তাঁর এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টের শেষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতার লাইনও উদ্ধৃত করে তিনি লিখেছেন, “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির”। অর্থাৎ, তিনি যে কবিগুরুর রাজ্যের মেয়ে এবং কোনওরকম ভুয়ো খবর বা ট্রোলিংয়ের মাধ্যমে তাঁকে যে ভয় দেখানো যাবে না, এই বার্তার মাধ্যমেই তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই নেত্রী।

