দুর্গাপুজোর আগে রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য বড়সড় চমক দিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এক ধাক্কায় অনেকটাই মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ বাড়ানো হল রাজ্যে। সংশোধিত মূল বেতনের উপর এ বার থেকে ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পাবেন কর্মীরা। মঙ্গলবার নবান্নের তরফে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকেই নতুন এই বর্ধিত হার কার্যকর হবে বলে অর্থ দফতরের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে। উৎসবের আগে এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া সরকারি কর্মচারী মহলে। মঙ্গলবার রাজ্য অর্থ দফতরের অডিট শাখা থেকে ডিএ বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হয়। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, শুধু রাজ্য সরকারি কর্মচারীরাই নন, এই সুবিধার আওতায় পড়বেন আরও অনেক ক্ষেত্রের কর্মীরা। সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং সরকার-পোষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরাও বর্ধিত ডিএ পাবেন। পাশাপাশি পঞ্চায়েত, পুরনিগম, পুরসভা, বিধিবদ্ধ সংস্থা এবং অন্যান্য সরকারি অধিগৃহীত সংস্থার কর্মীদের জন্যও এই একই হারে ডিএ প্রযোজ্য হবে। অর্থ দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পি কে মিশ্রের স্বাক্ষর করা ওই নির্দেশিকায় ডিএ গণনার পদ্ধতিও স্পষ্ট করা হয়েছে। বলা হয়েছে, কর্মচারীদের সংশোধিত মূল বেতনের ওপর ভিত্তি করেই ৩৮ শতাংশ ডিএ হিসাব করা হবে। যে সব ক্ষেত্রে কর্মীদের নন-প্র্যাকটিসিং অ্যালাওয়েন্স বা এনপিএ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে মূল বেতনের সঙ্গে তা যুক্ত করে ডিএ-র হিসাব কষতে হবে। রাজ্য সরকারের পেনশনভোগী এবং ফ্যামিলি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও ডিয়ারনেস রিলিফ বা ডিআর-এর হার বাড়িয়ে ৩৮ শতাংশ করা হয়েছে। পেনশন বিতরণকারী ব্যাঙ্ক বা ট্রেজারি কর্তৃপক্ষ সংশোধিত পেনশনের ওপর ভিত্তি করেই নতুন ডিআর হিসাব করবেন। ১ অক্টোবর থেকেই এই বর্ধিত টাকা হাতে পাবেন তাঁরা। প্রশাসনিক স্তরে এই ডিএ কার্যকর করার প্রক্রিয়াও সরল করেছে অর্থ দফতর। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ডিএ ও ডিআর গণনার পর প্রাপ্ত টাকার অঙ্ক নিকটতম পূর্ণ টাকায় রাউন্ড অফ করতে হবে। তবে সরকারি অধিগৃহীত এবং বিধিবদ্ধ সংস্থাগুলিকে ডিএ দেওয়ার জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে অতিরিক্ত খরচের সংস্থান করতে হবে। এর জন্য রাজ্য সরকার আলাদা করে কোনও আর্থিক সাহায্য দেবে না। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতরগুলি অর্থ দফতরের গ্রুপ-পি২ শাখার নতুন কোনও অনুমতি ছাড়াই সরাসরি এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ডিএ দেওয়ার কাজ শুরু করতে পারবে। ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলাশাসক, বিভাগীয় প্রধান, পুলিশ সুপার এবং ট্রেজারি অফিসারদের কাছে নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুর্গাপুজোর আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় সরকারি কর্মীদের উৎসবের আনন্দ যে আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

