দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলা চর্চিত বফর্স কেলেঙ্কারির আইনি অধ্যায় অবশেষে সমাপ্ত করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। হিন্দুজা ব্রাদার্স এবং সুইডিশ অস্ত্র প্রস্তুতকারক সংস্থা এবি বফর্সের বিরুদ্ধে সমস্ত ফৌজদারি কার্যধারা বাতিল করে ২০০৫ সালের দিল্লি হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি আবেদন বৃহস্পতিবার খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে এই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল মামলার পুনরুজ্জীবনের সমস্ত দরজাই আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেল। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ আইনজীবী অজয় কে আগরওয়ালের করা আবেদনটি শুনতে অস্বীকার করে। শুনানির সময় আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী শ্রীচাঁদ পি হিন্দুজা এবং গোপীচাঁদ পি হিন্দুজা—উভয় ভাইয়েরই প্রয়াণ ঘটায় তাঁদের নাম পিটিশন থেকে বাদ দেওয়ার জন্য চার সপ্তাহ সময় চান। তবে সেই আর্জি সরাসরি নাকচ করে দেয় শীর্ষ আদালত। বহুল আলোচিত বফর্স কেলেঙ্কারির সূত্রপাত ঘটেছিল ১৯৮৬ সালের ২৪ মার্চ। ভারতের তৎকালীন সরকারের সঙ্গে সুইডিশ প্রতিরক্ষা সংস্থা ‘এবি বফর্স’-এর প্রায় ১ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকার ৪২৫টি হাউইটজার কামান কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর ১৯৮৭ সালে সুইডিশ রেডিওর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই চুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও প্রতিরক্ষা আধিকারিকদের মোটা অঙ্কের বেআইনি কমিশন দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ ঘিরেই তীব্র রাজনৈতিক ঝড় ওঠে। দীর্ঘ তদন্তের পর ২০০৫ সালের ৩১ মে দিল্লি হাইকোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে শ্রীচাঁদ, গোপীচাঁদ এবং প্রকাশ হিন্দুজা এবং এবি বফর্স সংস্থাকে সমস্ত ফৌজদারি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়। হাইকোর্ট সে সময় জানায়, সিবিআইয়ের জমা দেওয়া প্রমাণের মধ্যে গুরুতর ঘাটতি রয়েছে। হিন্দুজা ভাইদের চুক্তি পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি কোনো ভূমিকা বা তাঁরা যে টাকা পেয়েছিলেন তা বেআইনি কমিশন—এমন কোনো জোরালো প্রমাণ প্রসিকিউশন পক্ষ দিতে পারেনি। পাশাপাশি, সুইডেন থেকে সংগৃহীত নথিপত্রগুলি আসল বা প্রত্যয়িত কপি ছিল না বলেও পর্যবেক্ষণ করে আদালত। উল্লেখ্য, এই মামলায় সিবিআইয়ের তদন্তের পেছনে রাজকোষ থেকে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। এর আগে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসেও সিবিআইয়ের (CBI) করা আবেদন ৪,৫২২ দিনের দীর্ঘ বিলম্বের কারণে খারিজ করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। আর এবার আইনজীবী অজয় আগরওয়ালের আবেদন খারিজ হওয়ার মাধ্যমে বিগত কয়েক দশক ধরে চলা এই হাইপ্রোফাইল আইনি বিতর্কের সমাপ্তি ঘটল।