বড়সড় পরিবর্তনের বার্তা দিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) । বুধবার উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক সদর দফতর ‘উত্তরকন্যা’-য় (Uttarkanya) আয়োজিত একটি মেগা পর্যালোচনা বৈঠক থেকে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় দলবাজি ও ভয়ের পরিবেশের দিন শেষ। ৪ জন হেভিওয়েট মন্ত্রী, রাজ্যের মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তাকে পাশে বসিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন আমলা ও পুলিশ আধিকারিকদের পেশাদারিত্ব এবং নিরপেক্ষতা (Political Neutrality) বজায় রেখে কাজ করার কড়া নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পাহাড়ের দীর্ঘদিনের জিটিএ (GTA) দুর্নীতি নিয়ে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন তিনি। এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী কোনো রাজনৈতিক নেতার মতো নয়, বরং প্রশাসনের একজন অভিভাবক হিসেবে আধিকারিকদের পাশে দাঁড়ান। তিনি বলেন, “বিগত বছরগুলিতে একটি অদৃশ্য ভয়ের কারণে রাজ্যের অফিসাররা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারতেন না। কে কার সঙ্গে দেখা করল বা কথা বলল— তা নিয়ে সারাক্ষণ নজরদারি ও শাস্তির আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াত প্রশাসনকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলার মানুষের মনে যে ভরসা ফিরিয়ে আনার কথা বলেছিলেন, আমাদের সরকার তা বাস্তবায়ন করবে।” শুভেন্দুবাবু সাফ জানান, কোনো রাজনৈতিক দলের নির্দেশ নয়, প্রশাসন চলবে স্রেফ সংবিধান ও আইনের নিয়মে। সৎ অফিসারদের সমস্ত রকম সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। উত্তরকন্যার বৈঠক থেকে এদিনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বার্তাটি ছিল পাহাড়ের স্বশাসিত সংস্থা ‘গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ বা জিটিএ-কে নিয়ে। বিগত এক দশকে এই সংস্থায় হওয়া কোটি কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির দিকে ইঙ্গিত করে মুখ্যমন্ত্রী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শুভেন্দু অধিকারী দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন, ‘পাহাড়ের সাধারণ মানুষের অধিকারের টাকা যারা আত্মসাৎ করেছে, তারা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, ছাড় পাবে না। বিগত জমানায় জিটিএ-র অন্দরে যে বিপুল সরকারি অর্থ লুটের কারবার চলেছে, তার স্থায়ী নিষ্পত্তি হবে। খুব শীঘ্রই এই দুর্নীতির ফাইল খুলে কড়া আইনি তদন্ত শুরু করবে আমাদের রাজ্য সরকার।”

